অভিযোগের প্রমাণ চান কানুনগো মোহাম্মদ নাজমুল হোসেন
- আপডেট সময় : ০১:০৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ১১৫ বার পড়া হয়েছে
মতিঝিল রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো মোহাম্মদ নাজমুল হোসেনকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ঘুষ, নামজারি বাণিজ্য, কথিত সিন্ডিকেট ও সম্পদ অর্জনসহ নানা অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য ও সরকারি নথিপত্র যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের কয়েকটিতে নাজমুল হোসেনের বিরুদ্ধে বদলি ঠেকাতে ১৭ লাখ টাকা ঘুষ, নির্দিষ্ট নামজারি মামলায় ৫ লাখ টাকা লেনদেন, ফাইল আটকে রাখা, দালালচক্রের মাধ্যমে অর্থ আদায় এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায়, দুদকের চার্জশিট কিংবা সংশ্লিষ্ট সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে কানুনগো মোহাম্মদ নাজমুল হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এসব অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেন বলে জানা গেছে। তাঁর দাবি, দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো ব্যক্তি বা মহলের স্বার্থে আঘাত লাগতে পারে এবং সেই কারণে তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নানা অভিযোগ ছড়ানো হয়ে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট নামজারি মামলা বা ভূমি-সংক্রান্ত কার্যক্রমে তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি, লেনদেনের প্রমাণ, সাক্ষ্য কিংবা তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করা হোক। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর আপত্তি নেই। তবে প্রমাণ ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করা অনভিপ্রেত।
এদিকে তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট নামজারি মামলা, কথিত ৫ লাখ টাকা লেনদেন কিংবা ১৭ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ জনসমক্ষে আসেনি। একইভাবে তাঁর নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে কথিত সম্পদের বিষয়ে দলিল, আয়কর নথি কিংবা কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগকারীকে প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়াও ন্যায়সংগত সাংবাদিকতার অংশ। অভিযোগকে তদন্তের ফল বা আদালতের রায় হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, নাজমুল হোসেনের বিরুদ্ধে যেসব নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করতে হলে সংশ্লিষ্ট নামজারি নথি, অফিসের রেকর্ড, বদলি-পদায়নের সরকারি আদেশ, সম্পত্তির দলিল এবং প্রয়োজন হলে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান—সবকিছু সামনে আনতে হবে।
কানুনগো মোহাম্মদ নাজমুল হোসেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি স্বচ্ছ তদন্তকে স্বাগত জানান এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করার দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রমাণিত নয় এমন অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রচার না করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
ফলে এখন মূল প্রশ্ন—প্রকাশিত অভিযোগগুলোর পেছনে কী ধরনের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের তদন্তে সেগুলোর সত্যতা কতটুকু পাওয়া যায়। নিরপেক্ষ তদন্তই পারে অভিযোগ ও বাস্তবতার মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করতে।
















