বিআরটিসির বড় উদ্যোগ: দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে হাজার হাজার দক্ষ চালক তৈরি
- আপডেট সময় : ০১:১১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
Share the post "বিআরটিসির বড় উদ্যোগ: দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে হাজার হাজার দক্ষ চালক তৈরি"
সড়ক দুর্ঘটনা কমানো এবং দক্ষ চালক তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়াতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) এক ব্যাপক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে। দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় মোট ৬৮ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান ‘বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্ট’-এর অধীনে ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪০ হাজার নতুন তরুণকে পেশাদার চালক হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং বাকি ২০ হাজার কর্মরত চালককে রিফ্রেসার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই কার্যক্রম ২০২৬ সালের মে মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত চলবে। প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বিআরটিসির চারটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং ২৩টি কেন্দ্রের মাধ্যমে। গাজীপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, খুলনা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব কেন্দ্র অবস্থিত।
এর পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে পরিচালিত ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি ইনোভেশন’ কর্মসূচির আওতায় আরও ৮ হাজার নতুন চালককে প্রশিক্ষণ দেবে বিআরটিসি। মধ্যপ্রাচ্যে চাকরির সুযোগ বাড়াতে প্রশিক্ষণার্থীদের ইংরেজি ও আরবি ভাষা শেখানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণের মেয়াদ হবে মোট ৩৬০ ঘণ্টা। এতে আত্মরক্ষামূলক ড্রাইভিং, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্তকরণসহ পেশাদার ড্রাইভিংয়ের যাবতীয় বিষয় শেখানো হবে। সফল প্রশিক্ষণার্থীরা সরকারি স্বীকৃত সনদপত্রের পাশাপাশি বিনামূল্যে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন। নিয়মিত উপস্থিতির ভিত্তিতে যাতায়াত ও টিফিন ভাতাও দেওয়া হচ্ছে।
বিআরটিসির মহাব্যবস্থাপক (আইসিডব্লিউএস ও ট্রেনিং) ফাতেমা বেগম জানান, এই উদ্যোগ সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন এবং দক্ষ চালক তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, প্রথম দফায় প্রায় ৬ হাজার ৪০০ জন নতুন চালকের প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত সিসিপ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের ১ জুলাই। প্রশিক্ষণ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। ইতোমধ্যে চারটি ধাপে ২ হাজার ৮৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পঞ্চম ধাপে ৬৫০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
প্রকল্পে জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যানও রাখা হয়েছে। নারী যাত্রীদের হয়রানি রোধে সচেতনতা বাড়ানো এবং নারীদের ড্রাইভিং পেশায় আগ্রহী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘পিঙ্ক বাস’ সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যেও নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শুরুতে সাড়া কম থাকলেও এখন নারীরা এই পেশায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এর আগে ‘স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’ (এসইআইপি)-এর মাধ্যমে বিআরটিসি প্রায় ৪৭ হাজার ৫০০ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। নতুন এই দুই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।














