সংবাদ শিরোনাম :
অজপাড়াগাঁ থেকে মতিঝিলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, সততা ও দায়িত্বশীলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে চান ইব্রাহীম খলিল দোয়ারিকা-শিকারপুর সেতুর টোল আদায় সংক্রান্ত ভিত্তিহীন অভিযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামের নাম জড়ানোর প্রতিবাদ কর অঞ্চল-১২-এর সৎ কর্মচারীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন প্রকাশিত অভিযোগের প্রতিবাদ: তথ্য যাচাই ছাড়া নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ অনভিপ্রেত যে বীররা এই জাতিকে আত্মনির্ভরশীল আর স্বাধীন করেন তারাই এই চার নেতা! নূর-ই-আলমকে ৩৮ মাস (০১.০৯.২৩ হতে ৩০.০৯.২৬)পযর্ন্ত কোন কাজ করতে দেওয়া হয়নি শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন

বিআরটিসি কর্মকর্তা নূর-ই-আলমের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৭:২৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ২২৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)-এর কর্মকর্তা মো. নূর-ই-আলমকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তাঁর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

নূর-ই-আলমের দাবি, প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে প্রকৃত তথ্য, দায়িত্বের পরিধি এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রশাসনিক নথি যথাযথভাবে যাচাই না করেই তাঁর নাম বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এতে তাঁর দীর্ঘদিনের চাকরি ও ব্যক্তিগত সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বিশেষ করে কল্যাণপুর বাস ডিপোতে একটি অকেজো বাস কেটে বিক্রির বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে নূর-ই-আলম বলেন, সংশ্লিষ্ট বাসটি তাঁর দায়িত্বে যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে বাসটির কাটা বা বিক্রির সঙ্গে তাঁকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার বিষয়টি সঠিক নয়। এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানতে দায়িত্ব হস্তান্তর ও ডিপোর সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

বিভিন্ন ডিপোর রাজস্ব জমা না দেওয়া সংক্রান্ত যে অভিযোগ সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ডিপো ও দপ্তরে দায়িত্ব পালন করলেও প্রত্যেকটি আর্থিক লেনদেন বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনার জন্য একজন কর্মকর্তাকে এককভাবে দায়ী করা যায় না। সংশ্লিষ্ট সময়ের দায়িত্ব বণ্টন, হিসাবরক্ষণ নথি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা যাচাই করলেই প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

এ ছাড়া যন্ত্রাংশ ক্রয়, বিল-ভাউচার, লিজ বাস পরিচালনা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে প্রকাশিত অভিযোগের ক্ষেত্রেও নূর-ই-আলমের বক্তব্য হলো—এসব বিষয়ে তাঁর প্রকৃত দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। কোনো প্রতিষ্ঠানে একাধিক স্তরে অনুমোদন ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ক্রয় ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ছাড়া কোনো অনিয়মের দায় তাঁর ওপর বর্তানো সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।

২০২৬ সালে বিআরটিসির লিজ বাস ও রুট পরিচালনা সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদ নিয়েও তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল না। ফলে ওই বিষয়েও তাঁকে জড়ানো তথ্যগতভাবে সঠিক নয়।

নূর-ই-আলম আরও বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত বা বিভাগীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করা স্বাভাবিক। কিন্তু অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই কোনো অভিযোগের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা সিদ্ধান্ত প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সময়ের অফিস আদেশ, দায়িত্ব বণ্টন, দায়িত্ব হস্তান্তর, হিসাব সংক্রান্ত নথি ও বিভাগীয় সিদ্ধান্ত যাচাই করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংবাদমাধ্যমের কাছে এসব নথি যাচাই করে সঠিক তথ্য প্রকাশের অনুরোধ করছি।”

উল্লেখ্য, বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নূর-ই-আলমের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযোগের সবগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বা আদালতের রায় হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও পাঠকের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

নূর-ই-আলমের দাবি, তিনি কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি ও প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি অনুসরণ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদে কোনো তথ্যগত অসঙ্গতি থাকলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো তা পুনরায় যাচাই করে সংশোধনের উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

ট্যাগস :

বিআরটিসি কর্মকর্তা নূর-ই-আলমের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ০৭:২৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)-এর কর্মকর্তা মো. নূর-ই-আলমকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তাঁর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

নূর-ই-আলমের দাবি, প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে প্রকৃত তথ্য, দায়িত্বের পরিধি এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রশাসনিক নথি যথাযথভাবে যাচাই না করেই তাঁর নাম বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এতে তাঁর দীর্ঘদিনের চাকরি ও ব্যক্তিগত সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বিশেষ করে কল্যাণপুর বাস ডিপোতে একটি অকেজো বাস কেটে বিক্রির বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে নূর-ই-আলম বলেন, সংশ্লিষ্ট বাসটি তাঁর দায়িত্বে যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে বাসটির কাটা বা বিক্রির সঙ্গে তাঁকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার বিষয়টি সঠিক নয়। এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানতে দায়িত্ব হস্তান্তর ও ডিপোর সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

বিভিন্ন ডিপোর রাজস্ব জমা না দেওয়া সংক্রান্ত যে অভিযোগ সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ডিপো ও দপ্তরে দায়িত্ব পালন করলেও প্রত্যেকটি আর্থিক লেনদেন বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনার জন্য একজন কর্মকর্তাকে এককভাবে দায়ী করা যায় না। সংশ্লিষ্ট সময়ের দায়িত্ব বণ্টন, হিসাবরক্ষণ নথি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা যাচাই করলেই প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

এ ছাড়া যন্ত্রাংশ ক্রয়, বিল-ভাউচার, লিজ বাস পরিচালনা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে প্রকাশিত অভিযোগের ক্ষেত্রেও নূর-ই-আলমের বক্তব্য হলো—এসব বিষয়ে তাঁর প্রকৃত দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। কোনো প্রতিষ্ঠানে একাধিক স্তরে অনুমোদন ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ক্রয় ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ছাড়া কোনো অনিয়মের দায় তাঁর ওপর বর্তানো সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।

২০২৬ সালে বিআরটিসির লিজ বাস ও রুট পরিচালনা সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদ নিয়েও তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল না। ফলে ওই বিষয়েও তাঁকে জড়ানো তথ্যগতভাবে সঠিক নয়।

নূর-ই-আলম আরও বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত বা বিভাগীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করা স্বাভাবিক। কিন্তু অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই কোনো অভিযোগের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা সিদ্ধান্ত প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সময়ের অফিস আদেশ, দায়িত্ব বণ্টন, দায়িত্ব হস্তান্তর, হিসাব সংক্রান্ত নথি ও বিভাগীয় সিদ্ধান্ত যাচাই করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংবাদমাধ্যমের কাছে এসব নথি যাচাই করে সঠিক তথ্য প্রকাশের অনুরোধ করছি।”

উল্লেখ্য, বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নূর-ই-আলমের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযোগের সবগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বা আদালতের রায় হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও পাঠকের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

নূর-ই-আলমের দাবি, তিনি কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি ও প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি অনুসরণ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদে কোনো তথ্যগত অসঙ্গতি থাকলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো তা পুনরায় যাচাই করে সংশোধনের উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।