প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
দোয়ারিকা-শিকারপুর সেতুর টোল আদায় সংক্রান্ত ভিত্তিহীন অভিযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামের নাম জড়ানোর প্রতিবাদ
- আপডেট সময় : ১০:৩৬:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
Share the post "দোয়ারিকা-শিকারপুর সেতুর টোল আদায় সংক্রান্ত ভিত্তিহীন অভিযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামের নাম জড়ানোর প্রতিবাদ"
বরিশাল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামকে জড়িয়ে দোয়ারিকা ও শিকারপুর সেতুর টোল আদায় এবং সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দেওয়ার বিষয়ে সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে তাঁর দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে যেসব গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রচার করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ৩০ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ওই দুই সেতুতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনুমানিক ৯৫ কোটি টাকা টোল আদায় হয়েছে এবং সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে প্রায় ৪২ কোটি টাকা। দুই অঙ্কের মধ্যে প্রায় ৫৩ কোটি টাকার ব্যবধান দেখিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অযাচাইকৃত ও একতরফা। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ তোলার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বিবরণী, সরকারি চালান, দৈনিক টোল আদায়ের রেজিস্টার, ব্যয়ের অনুমোদন এবং নিরীক্ষার ফলাফলসহ পূর্ণাঙ্গ হিসাব যাচাই করা অপরিহার্য। এসব নথি পরীক্ষা না করেই কোনো কর্মকর্তার নাম জড়িয়ে সংবাদ প্রচার করা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অন্যায্য।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তিনি এসব অভিযোগের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। টোল আদায় ও কোষাগারে জমার পুরো প্রক্রিয়া দাপ্তরিক নিয়ম ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা অনিয়মের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে একজন সরকারি কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।
সরকারি রাজস্ব আদায় ও জমার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্ব। আদায় ও জমার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকলে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং নিষ্পত্তি প্রয়োজন। একই সঙ্গে দাপ্তরিক দায়িত্বের পরিধি ও সংশ্লিষ্ট সকলের ভূমিকা নথির ভিত্তিতে যাচাই করা দরকার। শুধু অঙ্কের পার্থক্য দেখিয়ে কাউকে অভিযুক্ত করা যায় না। আবার সরকারি অর্থের হিসাবে অসংগতি থাকলে সেটিও উপেক্ষা করা যায় না। এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনই একমাত্র সমাধান।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা ও তদন্তকারী সংস্থার কাছে পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে, অভিযোগের কোনো অংশ অসত্য বা ভুল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও প্রমাণ যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা উচিত।
জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এ বিষয়ে সত্য উদ্ঘাটন, সরকারি রাজস্বের সুরক্ষা, জবাবদিহি এবং ন্যায্য সাংবাদিকতা নিশ্চিত করাই সবার লক্ষ্য। ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রচার করে কারো সুনাম ক্ষুণ্ন করার প্রবণতা বন্ধ হোক—এ দাবি জানিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।














