সংবাদ শিরোনাম :
বিআরটিসির বড় উদ্যোগ: দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে হাজার হাজার দক্ষ চালক তৈরি অজপাড়াগাঁ থেকে মতিঝিলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, সততা ও দায়িত্বশীলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে চান ইব্রাহীম খলিল দোয়ারিকা-শিকারপুর সেতুর টোল আদায় সংক্রান্ত ভিত্তিহীন অভিযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামের নাম জড়ানোর প্রতিবাদ কর অঞ্চল-১২-এর সৎ কর্মচারীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন প্রকাশিত অভিযোগের প্রতিবাদ: তথ্য যাচাই ছাড়া নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ অনভিপ্রেত যে বীররা এই জাতিকে আত্মনির্ভরশীল আর স্বাধীন করেন তারাই এই চার নেতা! নূর-ই-আলমকে ৩৮ মাস (০১.০৯.২৩ হতে ৩০.০৯.২৬)পযর্ন্ত কোন কাজ করতে দেওয়া হয়নি শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন

ভোগান্তির আরেক নাম পিজি হাসপাতাল বহির্বিভাগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪ ১৮৭৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
মানুষ রোগে শোকে জর্জরিত হয়ে একটু ভালো চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত পিজি হাসপাতালে আসেন। ভালো চিকিৎসার জন্য পিজি হাসপাতালের অনেক সুনাম আছে। প্রথমে রোগী দেখাতে হয় বহির বিভাগের মেডিকেল অফিসার ও প্রফেসর কে। দেখে যদি ভালো মনে হয় তাহলে ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। যাদের রোগের বিবরণ শুনে প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে ছেড়ে দেয়া হয় তারা একরকম বেঁচে যান। যে সকল রোগীর প্রেসক্রিপশনে টেস্ট লেখা হয় ভোগান্তি শুরু হয় এখান থেকেই।
এবার আসুন তাহলে বিস্তারিত জানাজাক,
স্বরে জমিনে নিজস্ব প্রতিনিধি অনুসন্ধান চালালে দেখা যায় প্রথমে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিতে হয়। সংশ্লিষ্ট বহির বিভাগ বা ডিপার্টমেন্টের। লাইনে দাঁড়িয়ে একের পর এক টিকিট প্রেসক্রিপশন পাচ্ছেন এমন কিন্তু না। এখানে সমস্যা হল স্টাফদের জন্য আলাদা একটা লাইন আছে। এই লাইনটাই হচ্ছে দুর্নীতির লাইন। স্টাফদের লাইন থেকে পাঁচজন টিকিট পেলেও ধীরে চলে সাধারণ রোগীদের লাইন।এ যেন বাংলাদেশ রেলের মানদাদার আমলের মাল গাড়ি। প্রথম আনসার সদস্যকে বললাম কিভাবে সহজে একটা টিকিট পাওয়া যায়। জনৈক আনসার বললেন, “আমি এখানে নতুন এসেছি আমি কিছু করতে পারবো না তবে ওই যে আয়া দেখতে পাচ্ছেন উনার কাছে যান”।আমি যথারীতি আয়ার কাছে গিয়ে বললাম উনি ১৩০ টাকা চাইলেন।আমি বললাম,টিকিটের দাম তো ৩০ টাকা আপনি কেন ১৩০ টাকা চাচ্ছেন? তিনি বললেন,এই ১০০ টাকা সবার মাঝে ভাগ হবে।বেশ ভালো কথা ১৩০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটা হলো। লাইনে দাঁড়ানো হলো,বিশাল লম্বা লাইন।এবার ডাক্তার দেখানোর পালা এবারও শর্টকাট খুঁজতে লাগলাম একজনকে খুঁজে পেয়ে স্টাফ হিসাবে ঢুকে গেলাম।আমাকে দেখে দেওয়া হল পাঁচটি দামি দামি টেস্ট অথচ আমার কোন রোগ আছে বলে মনে হয় না।যাক ডাক্তারকে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে আসলাম ।টেস্টের দাম জানতে সেখানেও লম্বা লাইন কোন মতে আনসারকে ৫০ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে দ্রুত কাজ সেরে নিলাম। তারপরে আসলাম ব্যাংকে টাকা দেয়ার জন্য সেখানেও লম্বা লাইন।যথারীতি চলে আসলাম টেস্টের জায়গায় সেখানেও লম্বা লাইন। সেবা নিতে আসা রোগীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন ভোগান্তির এক স্বর্গরাজ্য এই পিজি হাসপাতাল। গিয়েছিলাম সকাল ৯ টায় বের হলাম বিকাল ৪:০০ টায় যারা শর্টকাট করি নাই তাদের হয়তো আরো দুই তিন দিন লাগতে পারে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে।টেস্টের কাগজ নেওয়ার জন্য ও বিশাল লাইন সেখানেও স্টাফ লাইন। টেস্টের পেপারস ডক্টরকে দেখাতে গেলে সেখানেও আবার লম্বা লাইন সেখানেও স্টাফ। সেখানেও দুর্নীতির ফাঁদপাতা।

ট্যাগস :

ভোগান্তির আরেক নাম পিজি হাসপাতাল বহির্বিভাগ

আপডেট সময় : ০২:৪২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
মানুষ রোগে শোকে জর্জরিত হয়ে একটু ভালো চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত পিজি হাসপাতালে আসেন। ভালো চিকিৎসার জন্য পিজি হাসপাতালের অনেক সুনাম আছে। প্রথমে রোগী দেখাতে হয় বহির বিভাগের মেডিকেল অফিসার ও প্রফেসর কে। দেখে যদি ভালো মনে হয় তাহলে ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। যাদের রোগের বিবরণ শুনে প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে ছেড়ে দেয়া হয় তারা একরকম বেঁচে যান। যে সকল রোগীর প্রেসক্রিপশনে টেস্ট লেখা হয় ভোগান্তি শুরু হয় এখান থেকেই।
এবার আসুন তাহলে বিস্তারিত জানাজাক,
স্বরে জমিনে নিজস্ব প্রতিনিধি অনুসন্ধান চালালে দেখা যায় প্রথমে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিতে হয়। সংশ্লিষ্ট বহির বিভাগ বা ডিপার্টমেন্টের। লাইনে দাঁড়িয়ে একের পর এক টিকিট প্রেসক্রিপশন পাচ্ছেন এমন কিন্তু না। এখানে সমস্যা হল স্টাফদের জন্য আলাদা একটা লাইন আছে। এই লাইনটাই হচ্ছে দুর্নীতির লাইন। স্টাফদের লাইন থেকে পাঁচজন টিকিট পেলেও ধীরে চলে সাধারণ রোগীদের লাইন।এ যেন বাংলাদেশ রেলের মানদাদার আমলের মাল গাড়ি। প্রথম আনসার সদস্যকে বললাম কিভাবে সহজে একটা টিকিট পাওয়া যায়। জনৈক আনসার বললেন, “আমি এখানে নতুন এসেছি আমি কিছু করতে পারবো না তবে ওই যে আয়া দেখতে পাচ্ছেন উনার কাছে যান”।আমি যথারীতি আয়ার কাছে গিয়ে বললাম উনি ১৩০ টাকা চাইলেন।আমি বললাম,টিকিটের দাম তো ৩০ টাকা আপনি কেন ১৩০ টাকা চাচ্ছেন? তিনি বললেন,এই ১০০ টাকা সবার মাঝে ভাগ হবে।বেশ ভালো কথা ১৩০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটা হলো। লাইনে দাঁড়ানো হলো,বিশাল লম্বা লাইন।এবার ডাক্তার দেখানোর পালা এবারও শর্টকাট খুঁজতে লাগলাম একজনকে খুঁজে পেয়ে স্টাফ হিসাবে ঢুকে গেলাম।আমাকে দেখে দেওয়া হল পাঁচটি দামি দামি টেস্ট অথচ আমার কোন রোগ আছে বলে মনে হয় না।যাক ডাক্তারকে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে আসলাম ।টেস্টের দাম জানতে সেখানেও লম্বা লাইন কোন মতে আনসারকে ৫০ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে দ্রুত কাজ সেরে নিলাম। তারপরে আসলাম ব্যাংকে টাকা দেয়ার জন্য সেখানেও লম্বা লাইন।যথারীতি চলে আসলাম টেস্টের জায়গায় সেখানেও লম্বা লাইন। সেবা নিতে আসা রোগীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন ভোগান্তির এক স্বর্গরাজ্য এই পিজি হাসপাতাল। গিয়েছিলাম সকাল ৯ টায় বের হলাম বিকাল ৪:০০ টায় যারা শর্টকাট করি নাই তাদের হয়তো আরো দুই তিন দিন লাগতে পারে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে।টেস্টের কাগজ নেওয়ার জন্য ও বিশাল লাইন সেখানেও স্টাফ লাইন। টেস্টের পেপারস ডক্টরকে দেখাতে গেলে সেখানেও আবার লম্বা লাইন সেখানেও স্টাফ। সেখানেও দুর্নীতির ফাঁদপাতা।