বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি
পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়
- আপডেট সময় : ০৩:২৫:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৬৮ বার পড়া হয়েছে
Share the post "পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়"
পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে সারা দেশে বাসযোগ্য ও টেকসই নগর গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ র্যালির আয়োজন করা হয়।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানের ক্রিসেন্ট লেক গ্লাস ব্রিজ এলাকা থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। রিহ্যাব ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও র্যালিতে অংশ নেন।
র্যালির আগে দেওয়া বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে সারা দেশে বাসযোগ্য ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। সীমিত ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসন সংকট দূর করতে এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় ও জেলা শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ নগর এলাকায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আবাসন, সড়ক, যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক অবকাঠামো সমন্বিতভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’
এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Adequate Housing for All’। এর বাংলা ভাবানুবাদ করা হয়েছে ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’। নিরাপদ, পর্যাপ্ত, সাশ্রয়ী ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরাই এবারের কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
আগামীকাল ৫ অক্টোবর বিশ্ব বসতি দিবসের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলা
বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের লবিতে আগামীকাল থেকে তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলা শুরু হবে। মেলায় রিহ্যাব, নির্মাণ খাত, ব্যাংকিং সেবা, রাজউক, স্থাপত্য অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, নগর পরিকল্পনাসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা অংশ নেবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মেলায় মোট ১৫৭টি স্টল থাকবে। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী আবাসন মেলার উদ্বোধন করবেন বলে জানানো হয়েছে।
সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসনের ওপর গুরুত্ব
বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আগামীকাল দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও টেকসই আবাসন নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এতে নিম্নআয়ের মানুষের আবাসন উন্নয়ন, সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন, সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসনব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত নগরায়ণ ও ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদার প্রেক্ষাপটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ এবং পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল নগরব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশ্ব বসতি দিবসের এবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিরাপদ ও পর্যাপ্ত আবাসনকে মানুষের মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পরিকল্পিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।















