৭৭বছর আগে১৪ আগষ্ট ইতিকথা?
- আপডেট সময় : ০৫:৫৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ৮৫ বার পড়া হয়েছে
মুহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরীঃ
২৩ জুন ১৭৫৭ পলাশীর প্রান্তরে মীরজাফর এর সহযোগিতায় নবাব সিরাজুদ্দৌলাকে হত্যার পর ইষ্ট ইণ্ডিয়ান কোম্পানি এই উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উথান ঘটায়! ১৪ আগষ্ট ১৯৪৭ দেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় পাকিস্তানের নেতা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বাংলার নেতা শের-এ-বাংলা এ,কে,এম,ফজলুল হক আর আসাম সংসদের সভাপতি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং অলইন্ডিয়ান মুসলিম ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে পূর্ববাংলা একটি সময় পর্যন্ত পাকিস্তানের সাথে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কৌশলে সফল হয়! সেদিন পূর্ব বাংলাকে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে রাজী না হলে আজকের বাংলাদেশ কোন দিন স্বাধীনতা অর্জন করতে পারতো কিনা তা আজ পর্যালোচনার প্রয়োজন নয় কি?সেদিন পশ্চিম পাকিস্তান আর পূর্ব পাকিস্তান একভুত হয়ে ইন্ডিয়া থেকে বেড় হয়ে আসতে ব্যার্থ হলে কাশ্মীর,বিহার,উড়িশ্যা,পশ্চিমবাংলা সহ আজকের ইন্ডিয়াতে যে মুসলিম গনহত্যা হয়েছে এবং হচ্ছে! তা থেকে কি আজকের বাংলাদেশ মুক্ত থাকতো! ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ থেকে ১৫ ডিসেম্বর ৭১ গনহত্যা আর ১৬ ডিসেম্বর ৭১আত্মসমার্পনের ইন্ডিয়ান অরোরার স্বাক্ষরের পর গনহত্যা গনলুট কাশ্মীর, বিহার,উড়িশ্যা,পশ্চিমবাংলা, সম্প্রতি গুজরাট সহ নানা মুসলিম গনহত্যা আর গনলুট ইসলামী প্রতিষ্ঠান মসজিদে হামলার ঘটনার সাথে অনেক মিল আছে। স্বাধীনতার সময় আ’লীগ নেতা মাওলানা আব্দুস রশীদ তর্কোবগিশ শুধু মওলানা থাকা আর লেবাস মুসলিম হওয়ার কারণে নির্যাতনের স্বীকার হয়। স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা রুপকার স্হপতি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ২২ জানুয়ারী ৭২ পর্যন্ত গৃহবন্দী থাকেন। এই সব ঘটনা পর্যালোচনা করেই দেশে ফিরে ঢাকায় এসে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী দাবী করেন? নিরপেক্ষ তদন্তে যারা অপরাধী প্রমান হবে তাদের ছাড়া অন্য কাউকে অভিযুক্ত করার হলে বিপদ আছে। এই ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর পাকিস্তান ফেরত শেখ মজিবুর রহমান একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। যার প্রধান করেন জহির রায়হানকে? জহির রায়হানের এক সপ্তাহ তদন্তের অগ্রগতি গতি দেখে তাড়াহুড়া করে তদন্ত কমিটি স্হগীত ও তার একসপ্তাহ পরে জহির রায়হান গুম করে! তখন বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ছিলো ওপারে যে ভাবে হত্যা করেছে তার সঙ্গে ২৬ মার্চ৭১ থেকে ৭২ পর্যন্ত হত্যাকান্ডের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? তারও আগে ১৭৫৭ পর থেকে কথিত জমিদার বাগেরহাটের প্রতাপ সিং পাবনার চিতলী বাবু,টাঙ্গাইলের জমিদার সহ নোয়াখালীর জমিদার সহ অধিকাংশ জমিদারের লোমহর্ষক ঘটনার মিল খুঁজে পায়? এসব ঘটনা পর্যালোচনা প্রবীণদের মধ্যে আলোচনা হতে থাকে এবং মহান স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়া উর রহমান অস্হায়ী প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর ইন্ডিয়ান সীমান্ত এলাকায় তার চলাফেরা ঝুঁকি পূর্ণ হয়ে ওঠে? তারপর ১৬ ডিসেম্বর৭১ আত্মসমর্পণের সময় স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সরোয়ারদী উদ্দ্যান আসতে দেওয়া হয় না। এমন কি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম,এ,জি,ওসমানীকে উপস্থিত হতে বাঁধা দেয়?আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান একে খন্দকার উপস্থিত থাকলেও তাকে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয় না? আর আত্মসমর্পণের পর আজকের ইন্ডিয়ার বিহার উড়িশ্যা,পশ্চিমবাংলা, সম্প্রতি গুজরাট সহ বিভিন্ন অঞ্চলে যে ভাবে অজুহাত তুলে মুসলিম গনহত্যা চালু করে।ঠিক বাংলাদেশে স্বাধীনতার পরই একই কৌশলে মুসলিম গনহত্যা শুরু করতে ইসলামী দল গুলোর অভিযুক্ত করে। কিন্তু মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর কারণে ব্যার্থ হয়? ১৫ আগষ্ট ৭৫ কর্নেল ফারুক-মেজর হুদাদের কারণে এই চক্রান্ত সাময়িক থমকে দাঁড়ায়!আবারও মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করে। একদল দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা ও সিপাহি জনতার বিপ্লব ও সংহতির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতার ঘোষক মুক্ত হন। তারপর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দল গঠন প্রতিবেশীর সাম্প্রদায়িক আক্রোশের স্বীকার রাজনৈতিক দল গুলোকে রাজনীতি করার অনুমতি দান করেন। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী একবার বলে ছিলেন মুসলমান হিসাবে আমরা যতদিন পরিচয় দেবো ততদিন আমাদের স্বাভৌমের উপর হস্তক্ষেপ করতে ওরা সাহস পাবে না? এরপর ইদানীং শহীদ জিয়ার শাহাদাৎ এর অন্তরালে কারা জড়িত ছিলো বের হয়ে আসছে? তারপর ওপারের ঈঙ্গিতে সেনাপ্রধান এইচ,এম,এরশাদ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে। তখন গৃহবধূে থেকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দুই সন্তান বাসায় রেখে রাজপথে নেমে আসে প্রথম মহিলা মুক্তি যোদ্ধা বেগম খালেদাজিয়া। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর এরশাদ ক্ষমতা ছাড়েন।এই আনন্দলনে জামায়াতে ইসলামী সহ দেশপ্রেমিকরা মাঠে থাকে? একটা পর্যায়ে সাংবাদিক ফয়েজ ভাইয়ের প্রচেষ্টায় মহাখালীতে শেখ হাসিনা বেগম খালেদাজিয়ার সাথে বসেন! তারপর এরশাদের পদত্যাগ এবং নির্বাচনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদাজিয়া ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু প্রতিবেশী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কথায় রাজী না হওয়া ১/১১ পর থেকে আগষ্ট ২৪ পর্যন্ত ফরমায়েশ রায়ে এতিমের টাকা আত্মসাৎকারী হিসাবে বিবেচিত হন। দেশের সিংহভাগ মানুষকপ এই রায় প্রভাবিত করতে পারে নাই। এছাড়াও দিল্লির পরোক্ষ ঈঙ্গিতে সর্বজনাব শহীদ হন সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরী, অধ্যাপক গোলাম আজম, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী,আব্দুল কাদের মোল্লা,আলী আহসান মুজাহিদ, মির কাশেম আলী সহ ইসলামি নেতৃবৃন্দকে ফাঁসির নামে হত্যা,শাপলা চত্বরে হত্যা,স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া ও তারপরিবারকে স্বাধীনতা বিরোধী বলা সহবিভিন্ন জাতিকে বিভক্তি করার চক্রান্ত করে। ১/ ১ ১ পর থেকে ২৪ এর পলায়নের দিন পর্যন্ত জাতিয় নেতৃবৃন্দের যে ঐক্য ছিলো তা জনতাকে বাদ দিয়ে ক্ষমতা আকঁড়ে ধরতে গিয়ে বিভক্তির পথে? আগষ্ট বার বার আমাদের সাম্প্রদায়িক অপশক্তি থেকে মুক্তি দিয়েছে? আর বার ক্ষমতার মুলা ঝুলিয়ে দখলদারীত্ব নিশ্চিত করেছে। আজকে আবার বিভক্তির চক্রান্ত চলছে।এই চক্রান্ত থেকে প্রতিহত করতে ঐক্য বদ্ধ থাকার কোন বিকল্প নাই। ক্ষমতা দেবে জনতা আর ঐক্য বদ্ধ রাখার দায়িত্ব রাজনীতিবীদদের। লেখক সাংবাদিক ও চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশন(বিআরজেএ) ও সম্পাদক দৈনিক শিকল।















