বিএডিসির সারগুদাম উন্নয়ন প্রকল্পে নেতৃত্বে বেড়েছে সংরক্ষণ সক্ষমতা, কৃষকের জন্য শক্তিশালী হয়েছে সরবরাহ অবকাঠামো
- আপডেট সময় : ০৮:০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ৭৭ বার পড়া হয়েছে
Share the post "বিএডিসির সারগুদাম উন্নয়ন প্রকল্পে নেতৃত্বে বেড়েছে সংরক্ষণ সক্ষমতা, কৃষকের জন্য শক্তিশালী হয়েছে সরবরাহ অবকাঠামো"
দেশের কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে কৃষকের কাছে সময়মতো মানসম্মত সার পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এ কাজের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো পর্যাপ্ত ও নিরাপদ সার সংরক্ষণের সক্ষমতা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) বাস্তবায়ন করেছে ‘বিএডিসির বিদ্যমান সারগুদামসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ, পুনর্বাসন এবং নতুন গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
২০১৯ সালে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হওয়া এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যয় হয়েছে ৩৫০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন প্রকল্প পরিচালক মো. মুজিবুর রহমান খান। ২০২৩ সাল থেকে তিনি প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, মুজিবুর রহমান খানের নেতৃত্বে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নতুন সারগুদাম নির্মাণ, পুরোনো গুদাম সংস্কার ও পুনর্বাসন এবং সার সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকল্পের আওতায় দেশের অন্তত ৩০টি জেলার বিভিন্ন কৃষিনিবিড় এলাকায় ৪২টি নতুন সারগুদাম নির্মাণ করা হয়েছে। এসব গুদামের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন নতুন সার সংরক্ষণ সক্ষমতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের পুরোনো ও জরাজীর্ণ ৯২টি সারগুদাম সংস্কার ও পুনর্বাসন করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যমান অবকাঠামোর ব্যবহারযোগ্যতা যেমন বেড়েছে, তেমনি নিরাপদে সার সংরক্ষণের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক মুজিবুর রহমান খান বলেন, নিরাপদভাবে সার সংরক্ষণ কৃষি উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। বর্তমান প্রকল্পের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তবে দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় ভবিষ্যতে আরও সারগুদাম নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়, পরিকল্পনা ও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্পে অবকাঠামোর স্থায়িত্ব ও ব্যবহারযোগ্যতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও মুজিবুর রহমান খান প্রকল্পের লক্ষ্যকে কৃষকের প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলে তারা জানান।
নতুন গুদাম নির্মাণ ও পুরোনো গুদাম পুনর্বাসনের ফলে দেশের সার সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে সার সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কমার পাশাপাশি বৃষ্টি, আর্দ্রতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাব থেকে সারকে সুরক্ষিত রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মুজিবুর রহমান খানের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত এ প্রকল্প দেশের সার ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত ভিত্তি তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এই সক্ষমতা আরও সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের প্রয়োজনের সময়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে মানসম্মত সার সরবরাহ নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।







