সুপার পেট্রোকেমিক্যালের রিফাইনারি সম্প্রসারণ: সংবাদ যাচাইয়ে বিপিসির ৬ সদস্যের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ১১২ বার পড়া হয়েছে

সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি কর্তৃক স্থাপিত প্ল্যান্টের প্রসেসিং সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। কমিটিকে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্ল্যান্ট পরিদর্শন করে প্রকৃত প্রসেসিং সক্ষমতা, সম্প্রসারণের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিপিসির অফিস আদেশে বলা হয়েছে, দৈনিক বণিক বার্তা ও জাগো নিউজ ডটকমে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাই এবং এ বিষয়ে বিপিসির অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

কমিটিতে রয়েছেন বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব), মহাব্যবস্থাপক (অর্থ), মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন), মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক ও অপারেশন), ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) এবং বিপিসির উপ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক ও অপারেশন)।

২০২৩ সালের নীতিমালায় কী আছে

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ১৫ নভেম্বর ২০২৩ সালের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুদ, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহণ ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩’ জারি করা হয়। নীতিমালায় বেসরকারি খাতে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুদ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনের জন্য বিভিন্ন যোগ্যতা ও অনুমোদনের শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি উদ্যোক্তাকে দেশে নিজস্ব বা যৌথ মালিকানায় বার্ষিক ন্যূনতম ১৫ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন বা প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতাসম্পন্ন রিফাইনারি স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি নিজস্ব জেটি, পর্যাপ্ত অবকাঠামো, আর্থিক সক্ষমতা, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত কমপ্লায়েন্সসহ একাধিক শর্ত পূরণের কথা বলা হয়েছে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো রিফাইনারি স্থাপন করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অনুমোদন, বন্দর ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় অনুমতিসহ নির্ধারিত আইন ও বিধি অনুসরণ করতে হবে।

সুপার পেট্রোকেমিক্যালকে ঘিরে কেন প্রশ্ন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ডাঙ্গারচর এলাকায় অবস্থিত সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসির প্ল্যান্টটি সরকারি শিল্প-নিবন্ধন তথ্যেও জ্বালানি তেল রিফাইনারি/শোধনাগার হিসেবে তালিকাভুক্ত এবং প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধিত অবস্থা দেখানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক গণমাধ্যম প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান ন্যাফথা ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা এবং নতুন করে বড় পরিসরে ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। জাগো নিউজের ২৩ আগস্ট ২০২৬-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিদ্যমান প্ল্যান্টের সক্ষমতা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টন হলেও সেটিকে বড় রিফাইনারিতে সম্প্রসারণের কাজ চলছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণ-সংক্রান্ত একটি আবেদন আগে মন্ত্রণালয় থেকে নাকচ হয়েছিল। এসব দাবিরই সত্যতা যাচাই করতে এখন বিপিসি কমিটি মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করবে।

অন্যদিকে এর আগে জাগো নিউজের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রস্তাবিত নতুন প্ল্যান্টের ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা প্রায় ১৯ লাখ টন এবং বিদ্যমান ন্যাফথা ও কনডেনসেট প্ল্যান্টের ক্ষমতা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টন।

সরকারের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যই এখন মূল বিষয়

বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি কেবল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্ল্যান্ট সম্প্রসারণের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে সরকারের ২০২৩ সালের বেসরকারি রিফাইনারি নীতিমালার শর্ত, অনুমোদন প্রক্রিয়া, পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জ্বালানি বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়ও জড়িত।

নীতিমালায় আবেদনকারীকে ফিজিবিলিটি স্টাডি, প্রকল্প প্রস্তাব, আর্থিক সক্ষমতার সনদ, প্ল্যান্টের লে-আউট ও প্রসেস ফ্লো, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা, জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিসহ একাধিক নথি দাখিলের কথা বলা হয়েছে। ফলে কোনো বেসরকারি রিফাইনারির সক্ষমতা বৃদ্ধি বা নতুন ইউনিট স্থাপনের ক্ষেত্রে এসব শর্ত বাস্তবে কতটা পূরণ হয়েছে, সেটি যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

বিপিসির তদন্তে মিলবে প্রকৃত চিত্র

বিপিসির গঠিত কমিটি সংবাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি সরেজমিনে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্ল্যান্ট পরিদর্শন করবে। সেখানে বিদ্যমান প্ল্যান্টের প্রকৃত সক্ষমতা, নতুন স্থাপনার কাজের অগ্রগতি, সম্ভাব্য উৎপাদন ক্ষমতা, অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও নীতিমালা অনুসরণের বিষয়গুলো যাচাই করার সুযোগ থাকবে।

এ কারণে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ বা দাবি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে বিপিসির তদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কমিটির প্রতিবেদনে প্রকৃত সক্ষমতা ও সম্প্রসারণের অগ্রগতি সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তিও দূর হতে পারে।

এদিকে বিপিসির ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসির নামে একাধিক আমদানির প্রত্যয়নপত্র প্রকাশিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়, যা প্রতিষ্ঠানটির চলমান জ্বালানি-সংক্রান্ত কার্যক্রমের একটি সরকারি রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, বিপিসির কমিটি সরেজমিন যাচাই শেষে নীতিমালা, অনুমোদন, প্রকৃত উৎপাদন/প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা এবং সম্প্রসারণের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে একটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্ল্যান্ট সম্প্রসারণ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন দাবির প্রকৃত সত্যতা স্পষ্ট হবে।

ট্যাগস :

সুপার পেট্রোকেমিক্যালের রিফাইনারি সম্প্রসারণ: সংবাদ যাচাইয়ে বিপিসির ৬ সদস্যের কমিটি

আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি কর্তৃক স্থাপিত প্ল্যান্টের প্রসেসিং সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। কমিটিকে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্ল্যান্ট পরিদর্শন করে প্রকৃত প্রসেসিং সক্ষমতা, সম্প্রসারণের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিপিসির অফিস আদেশে বলা হয়েছে, দৈনিক বণিক বার্তা ও জাগো নিউজ ডটকমে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাই এবং এ বিষয়ে বিপিসির অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

কমিটিতে রয়েছেন বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব), মহাব্যবস্থাপক (অর্থ), মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন), মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক ও অপারেশন), ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) এবং বিপিসির উপ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক ও অপারেশন)।

২০২৩ সালের নীতিমালায় কী আছে

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ১৫ নভেম্বর ২০২৩ সালের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুদ, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহণ ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩’ জারি করা হয়। নীতিমালায় বেসরকারি খাতে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুদ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনের জন্য বিভিন্ন যোগ্যতা ও অনুমোদনের শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি উদ্যোক্তাকে দেশে নিজস্ব বা যৌথ মালিকানায় বার্ষিক ন্যূনতম ১৫ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন বা প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতাসম্পন্ন রিফাইনারি স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি নিজস্ব জেটি, পর্যাপ্ত অবকাঠামো, আর্থিক সক্ষমতা, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত কমপ্লায়েন্সসহ একাধিক শর্ত পূরণের কথা বলা হয়েছে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো রিফাইনারি স্থাপন করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অনুমোদন, বন্দর ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় অনুমতিসহ নির্ধারিত আইন ও বিধি অনুসরণ করতে হবে।

সুপার পেট্রোকেমিক্যালকে ঘিরে কেন প্রশ্ন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ডাঙ্গারচর এলাকায় অবস্থিত সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসির প্ল্যান্টটি সরকারি শিল্প-নিবন্ধন তথ্যেও জ্বালানি তেল রিফাইনারি/শোধনাগার হিসেবে তালিকাভুক্ত এবং প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধিত অবস্থা দেখানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক গণমাধ্যম প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান ন্যাফথা ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা এবং নতুন করে বড় পরিসরে ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। জাগো নিউজের ২৩ আগস্ট ২০২৬-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিদ্যমান প্ল্যান্টের সক্ষমতা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টন হলেও সেটিকে বড় রিফাইনারিতে সম্প্রসারণের কাজ চলছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণ-সংক্রান্ত একটি আবেদন আগে মন্ত্রণালয় থেকে নাকচ হয়েছিল। এসব দাবিরই সত্যতা যাচাই করতে এখন বিপিসি কমিটি মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করবে।

অন্যদিকে এর আগে জাগো নিউজের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রস্তাবিত নতুন প্ল্যান্টের ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা প্রায় ১৯ লাখ টন এবং বিদ্যমান ন্যাফথা ও কনডেনসেট প্ল্যান্টের ক্ষমতা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টন।

সরকারের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যই এখন মূল বিষয়

বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি কেবল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্ল্যান্ট সম্প্রসারণের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে সরকারের ২০২৩ সালের বেসরকারি রিফাইনারি নীতিমালার শর্ত, অনুমোদন প্রক্রিয়া, পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জ্বালানি বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়ও জড়িত।

নীতিমালায় আবেদনকারীকে ফিজিবিলিটি স্টাডি, প্রকল্প প্রস্তাব, আর্থিক সক্ষমতার সনদ, প্ল্যান্টের লে-আউট ও প্রসেস ফ্লো, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা, জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিসহ একাধিক নথি দাখিলের কথা বলা হয়েছে। ফলে কোনো বেসরকারি রিফাইনারির সক্ষমতা বৃদ্ধি বা নতুন ইউনিট স্থাপনের ক্ষেত্রে এসব শর্ত বাস্তবে কতটা পূরণ হয়েছে, সেটি যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

বিপিসির তদন্তে মিলবে প্রকৃত চিত্র

বিপিসির গঠিত কমিটি সংবাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি সরেজমিনে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্ল্যান্ট পরিদর্শন করবে। সেখানে বিদ্যমান প্ল্যান্টের প্রকৃত সক্ষমতা, নতুন স্থাপনার কাজের অগ্রগতি, সম্ভাব্য উৎপাদন ক্ষমতা, অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও নীতিমালা অনুসরণের বিষয়গুলো যাচাই করার সুযোগ থাকবে।

এ কারণে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ বা দাবি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে বিপিসির তদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কমিটির প্রতিবেদনে প্রকৃত সক্ষমতা ও সম্প্রসারণের অগ্রগতি সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তিও দূর হতে পারে।

এদিকে বিপিসির ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসির নামে একাধিক আমদানির প্রত্যয়নপত্র প্রকাশিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়, যা প্রতিষ্ঠানটির চলমান জ্বালানি-সংক্রান্ত কার্যক্রমের একটি সরকারি রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, বিপিসির কমিটি সরেজমিন যাচাই শেষে নীতিমালা, অনুমোদন, প্রকৃত উৎপাদন/প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা এবং সম্প্রসারণের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে একটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্ল্যান্ট সম্প্রসারণ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন দাবির প্রকৃত সত্যতা স্পষ্ট হবে।