সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিক এইচ আর শফিকের অতিসত্বর মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মহল মাদক নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিএনসি’র সাফল্য প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ এর ৬ষ্ঠ স্মরণসভা পালিত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের মহারণ: মুখোমুখি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপসেরা স্পেন প্রকাশিত সাংবাদের তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ নিজেদের শহর নিজেরাই পরিষ্কার রাখি যেখানে ইতিহাস অন্তরালে রাখা হয় সেখানেই পরাধীনতার শৃঙ্খল পড়ানোর ষড়যন্ত্র চলে?? যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন টিপু — অভিজ্ঞতা ও সততার সমন্বয়ে যুবশক্তির নতুন যাত্রা

মাদক নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিএনসি’র সাফল্য

শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের অফিসার ও সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় চালানো বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহে জেলার ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর ও রূপগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়। একটি উল্লেখযোগ্য অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ উদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব অভিযানে আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর কারণে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন আইনে সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাদক চোরাচালান, সরবরাহ ও সম্পর্কিত আর্থিক লেনদেনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া, ডিএনসিকে অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি, নিজস্ব কুকুর ইউনিট (ডগ স্কোয়াড) গঠন এবং মাদকপ্রবণ এলাকায় দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মাদকের চোরাচালান ও বিক্রি রোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। নতুন আইনের আলোকে জনসাধারণের সহযোগিতায় এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে জেলাকে মাদকমুক্ত করার প্রচেষ্টা চলছে। তাঁরা আরও বলেন, “মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। নতুন আইন আমাদের হাতকে আরও শক্তিশালী করেছে। যেকোনো তথ্য দিতে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
এদিকে, স্থানীয় জনগণ ডিএনসির এই সক্রিয় ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, নিয়মিত অভিযান ও নতুন কঠোর আইনের ফলে এলাকায় মাদকের প্রভাব কমতে শুরু করেছে। তবে মাদকের পুরোপুরি নির্মূলের জন্য আরও জোরদার তৎপরতা চালানোর দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
নারায়ণগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুন জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে নতুন আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ আরও ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হবে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সাথে সমন্বয় করে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হবে।
মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে সাধারণ নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিএনসি কর্তৃপক্ষ সবাইকে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

ট্যাগস :

মাদক নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিএনসি’র সাফল্য

আপডেট সময় : ১২:১৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের অফিসার ও সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় চালানো বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহে জেলার ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর ও রূপগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়। একটি উল্লেখযোগ্য অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ উদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব অভিযানে আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর কারণে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন আইনে সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাদক চোরাচালান, সরবরাহ ও সম্পর্কিত আর্থিক লেনদেনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া, ডিএনসিকে অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি, নিজস্ব কুকুর ইউনিট (ডগ স্কোয়াড) গঠন এবং মাদকপ্রবণ এলাকায় দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মাদকের চোরাচালান ও বিক্রি রোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। নতুন আইনের আলোকে জনসাধারণের সহযোগিতায় এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে জেলাকে মাদকমুক্ত করার প্রচেষ্টা চলছে। তাঁরা আরও বলেন, “মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। নতুন আইন আমাদের হাতকে আরও শক্তিশালী করেছে। যেকোনো তথ্য দিতে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
এদিকে, স্থানীয় জনগণ ডিএনসির এই সক্রিয় ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, নিয়মিত অভিযান ও নতুন কঠোর আইনের ফলে এলাকায় মাদকের প্রভাব কমতে শুরু করেছে। তবে মাদকের পুরোপুরি নির্মূলের জন্য আরও জোরদার তৎপরতা চালানোর দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
নারায়ণগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুন জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে নতুন আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ আরও ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হবে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সাথে সমন্বয় করে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হবে।
মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে সাধারণ নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিএনসি কর্তৃপক্ষ সবাইকে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।