পলাশী থেকে বাংলাদেশ?
- আপডেট সময় : ০২:০০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ৯১ বার পড়া হয়েছে
মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী,
১৭৫৭ এ পলাশীর প্রান্তে নবাব সিরাজ উদ্দৌলাকে হত্যার পরিকল্পনা ক্ষমতার লোভ দেখীয়ে মির্জাফর আলীখান ব্যাবহার হয়! মীর্জাফর বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজুদৌলার খালু ছিলেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতা পান নাই পেয়েছেন মুনাফেক হিসাবে স্বীকৃতি। পর্দা আড়ালে চলে গেলো চক্রান্তকারী জগৎ শেঠ,রাজা রায় দূর্লোভ। ক্ষমতার অংশিদার হলেন বৃটিশ উপনিবেশীক? জনজীবন অতিষ্ঠ আর সামাজিক সম্প্রীত নষ্ঠ করতে উথান হলো সাম্প্রদায়িক জঙ্গী,সন্ত্রাসী অপশক্তি? চক্রান্তের শিকার সাম্প্রদায়িক জঙ্গী,সন্ত্রাসী রুখতে গিয়ে মুসলিম জনগোষ্ঠী। প্রায় ২শত বছর উপনিবেশিক শক্তির সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বন্ধ করতে গিয়ে মুসলমানরা হলো জুলুমের স্বীকার!১৯৪৬ সালে বিহার প্রদেশে ব্যাপক গণহত্যা শুরু করলে তখন যারা জীবন নিয়ে পালিয়ে তখনকার পূর্ব বাংলা আজকের বাংলাদেশে এসে মানবেতর জীবন-যাপন শুরু করে! যারা বিহারী পরবর্তিতে পাকিস্তানি হিসাবে বিহার হত্যার পরিকল্পনাকারীদের বংশধররা পরিচয় ঘটায়?অবশেষে ১৯৪৭ সালে বৃটিশ ভারত বর্ষ ত্যাগ করার আগে পশ্চিম পাকিস্তান আর পূর্ব পাকিস্তান কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শের-এ-বাংলা এ,কে,ফজলুল হক আর অলইন্ডিয়ান মুসলিম ছাত্র লীগের কারণে পৃথক করতে বাধ্য হয়।(তথ্য সূত্র আমার পিতা অল ইন্ডিয়ান মুসলিম ছাত্র লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি ইংরেজী বিভাগের সেই সময়ের ছাত্র কুষ্টিয়া নতুন কোটপাড়ার মরহুম মঈনুল হক চৌধুরী। তার পিতা পাবনার খয়েরসুতির মরুহুম কারী সেকেন্দার আলী চৌধুরী ওরফে কারী সাহেব)। পরবর্তিতে করম চাঁদ গান্ধী যখন নেহরু, প্যাটেলদের মাধ্যমে জানতে পারে পূর্ব বাংলা পৃথক হয়ে গিছে শুনে ক্ষীপ্ত হয়ে ওঠে? এক পর্যায়ে নেহেরু-প্যাটেলরা করম চাঁদ গান্ধীকে আস্বস্ত করে ১০-১৫ বছরের মধ্যে পূর্ব বাংলা তারা নিয়ন্ত্রনে নেবে? পাশাপাশি সেদিন থেকেই তারা মুসলিম অধ্যাশিত এলাকায় শান্তিবিঘ্নের জন্যে সন্ত্রাস, জঙ্গী আর সাম্প্রদায়িক ততপরতা শুরু করে। একটু পিছনে গিয়ে বলতে মুসলিমদের পৃথক হওয়ার আগেই নবাব স্যার সলিমুল্লাহ তার নিজ সম্পত্তির উপর বিশ্ববিদ্যালয় স্হাপনের উদ্দ্যেগ গ্রহন করেন। উত্তরাধিকার সুত্রে পতিতা ব্যাবসায়ীর নাতি রবিন্দ্র নাথ ঠাকুর বিশ্ব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় সৃষ্টি করে। কিন্তু নবাব স্যার সলিমুল্লাহ সকল বাঁধা আর চক্রান্ত পদদলিত করে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৫বছর হয়ে গেলো! কিন্তু দিল্লী এখনো চক্রান্ত বন্ধ করে নাই! পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তান ৫ বছর পর স্বাধীন হবে! কিন্তু কায়েদ আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র মৃত্যুর কারণে হলো না?এদিকে দিল্লী পূর্ব পাকিস্তানের উপর দখলদারিত্বের স্বপ্নে বিভোর!১৯৭০ সালে দক্ষিণ অন্চলে প্রাকৃতিক দূর্যোগ এলাকায় অসহায় মানুষের অবস্হা দেখতে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ১০৬ ডিগ্রী জ্বর নিয়ে যান। দক্ষিণ অন্চল থেকে মজলুৃম জননেতা মওলানা ভাসানী ঘোষনা দিলেন নির্বাচন বর্জনের? তিনি পরিস্কার বললেন স্বাধীনতার জন্যে প্রস্তত হতে? জাতি নির্বাচন বর্জন করে স্বাধীনতার জন্যে প্রস্তত হতে থাকে! মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর আ’লীগ দখলকারী শেখ মুজিবুর রহমান ৭মার্চ৭১ রেসকোর্স ময়দানে সমাবেশ ডালেন। জাতি অধির আগ্রহে অপেক্ষায় স্বাধীনতার ঘোষনা আসছে। শেখ মজিবুর রহমান বক্তব্য দিয়ে ষ্টেজ থেকে নিরবে নেবে গিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল গল্পে বসলেন পাক সেনা কর্নকর্তার সাথে? জাতি হতাশ হয়ে নিথর হয়ে গেলো। ৯ মার্চ৭১ পল্টনে আবার মজলুৃম জননেতা মওলানা ভাসানী গর্জে ওঠলেন কোন আলোচনা নয় স্বাধীনতা! তারপর মজলুৃম জননেতা মওলানা ভাসানী স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করতে বেড়ীয়ে পরেন! হঠাৎ করে ২৫ মার্চ৭১ দেশে গণহত্যা শুরু হয়। ২৫ মার্চ৭১ মজিব পরিবার পাকিস্তানী মেহমান হয়ে ঢাকায় থাকেন। আর শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান চলে গেলেন! কিন্তু কোন কারাগারে ছিলেন তা আজও কেউ বলতে পারেনি? সেই সময় চট্রগ্রামে অবস্হান করছিলেন মেজর জিয়া উর রহমান। ২৫ মার্চ৭১ দিনগত রাতে চট্রগ্রাম কালুরঘাট বেতর কেন্দ্র থেকে ইথারে ভেষে আসলো “আমি মেজর জিয়া অস্হায়ী প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বাধীনতা ঘোষনা করছি। এই ঘোষনা শুনে বাঙলার স্বাধীনতাকামী জনতা স্বাধীনতার জন্যে প্রস্তত হচ্ছে! এমন সময় প্রথম আটকহন বেগম খালেদা জিয়া দুই শিশুপুর তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো আটক হন? ইতিমধ্যে চট্রগ্রামের জনৈক আ’লীগ নেতা আব্দুল হান্নান মেজর জিয়াকে পরামর্শদেন শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বললে আ’লীগের কর্মীরা এই লড়াইয়ে অংশ গ্রহন করবে।এই ঘোষনায় মুজিবের লোকজন স্বাধীনতার দাবীদার হয়? এ দেশপ্রমিক মেজর জিয়া স্বাধীনতা ঘোষনার পর প্রতিবেশীর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তার অভাব আরে যেতে পারেন না। তারপর মেহেরপুর আম্রকাননের পরিচয়ে ইন্ডিয়া তাদের অনুসারীদের দিয়ে প্রবাসী সরকার গঠন করে! কিন্তু অস্হায়ী প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়াকে অনউপস্হিত রাখে? দীর্ঘ ৯ মাস বাংলার বীর যুবক জনতা জীবন পন লড়াইয়ের মুখে পাক সেনারা আত্মসমার্পন এর সিদ্ধান্ত নেয়? প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা, রুপকার,স্হপতি মজলুৃম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ইন্ডিয়াতে গৃহবন্দী। এদিকে রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমার্পন অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীকে উপস্থিত হতে দিলো না?ইন্ডিয়ার সেনাকর্মকর্তা অরোরা আত্মসমার্পন দলিলে স্বাক্ষর করে। কিন্তু আত্মসমার্পন অনুষ্ঠানে মুক্তি যুদ্ধের উপ-অধিনায়ক এ,কে,খন্দকার উপস্হিত াকা সত্বেও তাকে আত্মসমার্পন দলিলে স্বাক্ষর করতে দেয় না। এ নিয়ে তখন একটা গল্প প্রচলন ছিলো ইন্ডিয়া এক ঢিলে তিনটা লাভ করলো!১)আজ জীবন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর কাছে পরাজয়বরণ করেছে বাঙালীদের লড়াইয়ের বিজয় তাদের দাবীর সুযোগ হলো।২) করম চাঁদ গান্ধীর স্বপ্ন এই দেশের উপর খবরদারী করা সেই পথ পরিস্কার হওয়া।৩) পাকিস্তানের সেনাবাহিনী অস্ত্রের মালিকা না হস্তগত হওয়া। অস্হীরতা থাকতে থাকতে কলকারখানার যন্ত্র-পাতি লুট,মেধা সম্পর্ণ যুব সমাজকে ধ্বংস। আর দেশকে দূর্বল করতে বিভক্তি করা? ১০ জানুয়ারী ২২শেখ মজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে লন্ডন হয়ে দিল্লী তারপর কিছু দেশের স্বার্থ বিরোধী চুক্তি করে দেশে ফীরলেন। পরিক্ষা মুলক ফারাক্কার মরন বাঁধ চালু করে। শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফীরার ১২ দিনপর মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীকে গৃহবন্দী থেকে মুক্তি দিলে বরুমারী সিমান্ত দিয়ে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হওয়া ইন্ডিয়ার আধিপত্যের কবলে নিমজ্জিত বাংলাদেশে আসেন। স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা টাঙ্গাইল সন্তোষ হয়ে ঢাকায় আসলেন! পল্টন এক সমাবেশে বললেন যে দিন এদেশের ছাত্র-যুবকরা দিল্লী বাংলাদেশের অর্থবহ স্বাধীনতার অন্তরায়! সেই দিনই বাংলাদেশের জনতা স্বাধীন মর্যদা পাবে। এদিকে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান সিনিয়র হিসাবে সেনাপ্রধান হওয়ার কথা এ দায়িত্ব দেওয়া হলো না? অপর দিকে দিল্লীর রোড ম্যাপ অনুযায়ী সমানে গণহত্যা আর গনলুট চলতে থাকে। মুসলিম লীগ ও ইসলামী দলকে বিভক্তি করতে তাদের গণহত্যা, গনধর্ষন,লুটপাটের দায় এদের উপর চাপানোর পরামর্শ দিলো! মজিব সরকার আটক শুরু করলে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী গর্জে ওঠে বললেন জন্মসূত্রে যারা এই দেশের নাগরীক তাদের অভিযোগ গ্রহন যোগ্য তদন্ত ছাড়া বিচার করা যাবে না? এতে মজিব সরকার থমকে গেলো যাদের আটক করেছে,তাদের দালাল আইনে নামমাত্র সাজা দিলো? এরপর জহির রায়হানকে প্রধান করে একটা তদন্ত কমিটি করলো? ঐ কমিটি যখন প্রকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের চিহ্নিত করতে শুরু করলো তখন তড়িঘড়ি জহির রায়হান এর তদন্ত কমিটি স্হগীত করলো? এর এক সপ্তাহ পর জহির রায়হান গায়েব হলেন? আধিপত্যবাদ এর জুলুমের পরিণতি ১৫ আগষ্ঠ ৭৫ সৃষ্টিতে বাধ্য করলো? সেখানে বিদায়ী আধিপত্যবাদ শক্তির পক্ষের একজন রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকায় আবার আধিপত্য স্বীকার হলো বাংলাদেশ! ৭ নভেম্বর ৭৫ সিপাহী-জনতার বিপ্লবের নানা পথ অতিক্রম করে ক্ষমতায় বসালো দেশপ্রমিক অস্হায়ী প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া উর রহমানকে? শহীদ জিয়া দিল্লীর চক্ষুশূল যারা মুসলিম লীগ,জামায়াত সহ সকলকে রাজনীতিতে ফীরিয়ে আনলেন। স্বাধীনতার ঘোষকের শাসনের সাড়ে তিন বছর বাংলাদেশের নাগরীকরা স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করতে থাকে। তারপর চট্রগ্রাম সার্কিট হাউসে শহীদ জিয়া শাহাদাৎ এর পর দেশবাসী রাজপথে নেমে আসলে কচ্ছপের মত চক্রান্তকারী মাথা ডুকিয়েনেয়। একটা পর্যায় স্বাধীনতার জন্যে প্রথম গ্রেফতার কৃত গৃহবধূ দেশনেত্রী বেগম খালেদাজিয়া রাজপথে আসলেন। আধিপত্যবাদের আগ্রাসন থেকে জাতিকে মুক্ত করলেন।চারদলীয় জোট ভেঙে দেওয়ার পর আধিপত্যবাদ ওয়ানইলেভেনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ঘাড়ে চেপে বসলো। তারেক রহমান ১২ তম সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন বর্জনের আহবান জানালো? ভোটাররা বিনা প্রতিরোধে নির্বাচন বর্জন করলেন। তারপর জুলাই -আগষ্ঠ ২৪ জনতার বিজয় হলো। কিন্তু আধিপত্য গোষ্ঠী আবার আধিপত্যবাদ ফ্যাসিবাদ গোষ্ঠীকে পূর্নবাসনের খেলায় আধিপত্য ফ্যাসিবাদ বিরোধী লেবাসে চক্রান্ত শুরু করেছে। বিদ্যমান সংবিধান বাতিল আর জুলাই সনদ কেবল সকল চক্রান্ত থমকে দিতে পারে বলে সকল মহলে আলোচনা। লেখক সম্পাদক দৈনিক শিকল, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী। ২৮/৩/২৬








