মায়ের সাথে কথা বলি

কবি মোঃজাহিদুল ইসলাম জাহিদ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫ ৭২৫ বার পড়া হয়েছে

 

নক্ষত্রের আলোয় ঘেরা আমার পুরো ঘর বাড়ি

উঠোনের দুলোয় গন্ধ ছড়ায় গোলাপের পাপড়ি

সন্ধ্যার জোছনায় আলোয় ভরে যায় প্রশান্তির ছায়ায়

যুগ-যুগান্তরে পেয়েছি এমনি করে আমার মায়ের মায়া,

ভোরের পাখির ডাকে উঠা -অন্ধকারে আলোয় ঘেরা

সমস্ত ক্লান্তি-ঘুম বিসর্জন কেটে গেছে কত বেলা।

 

ঘরে ফেরা হয়নি কত মাস – আমি যখন ঘরে ফিরি

মায়ের আস্তিরতা- আকুলতা বেরেই চলে

কি হবে, কি করবে, ছেলের পছন্দের খাবার-লাউ শাক!

কোথায় পাবে! কি যে একটা হস্তনস্ত ব্যাপার

আমার মায়ের সম্পদ বলতে আমরা দুই- ভাই

যন্ত্রনা বলতেও আমরা দুই ভাই।

 

মা যেদিন পৃথিবী ছেরে চলে যায় তখন আমি মায়ের সাথে

আমার কোলে মায়ের শেষ কালিমা পড়া

মৃত্যু এত সহজ হয়,ঐ দিন মায়ের মৃত্যুতে দেখেছি

মৃদু হাসি-কালিমা-সকলের সাথে কথা বলা, চীর মুক্তি!

তবে মুক্তি মিলেনি আমার যন্ত্রনার,আমার-কান্নার

আমার অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া গোলাপি জোছনার।

 

এ বেলা থেকে ও বেলা সময়ের সমাপ্তি লগ্নে

থাকা হয়নি তার, পৃথিবীর আপন মানুষেরে লয়ে

থাকা হয়নি প্রিয় ঘরে,প্রিয় বিছানার নীল চাদরে

দেখা হয়নি বাগানের কমলা ফুল,আমের ছোট্ট মুকুল

দেখা হয়নি আপনার আপন প্রিয় ভাই বোন।

 

আবার ফিরেছি ঘরে, ডাকেনি কেও বাবা বলে

বারান্দার চেয়ারে বসে কেও বলনি, শুকিয়ে গেছো!

এখন কি তেমন খাওনি,নাকি চিন্তা কর বেশি ,

পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ, বাবা-ও বোবা হয়ে গেছে

দীর্ঘ দিনের মায়া,পাজর ছিরে উড়ে গেছে কোন নিরবতায়।

 

এখনো কথা বলি মন খারাপের দিনে,সকাল-দুপুর-ভোরে

মা যেন সব বুঝে, সব শুনে,এই আকুলা স্নেহের গভীরতা

মা যেন ডেকে বলে প্রিয় লাউ- শাকের কথা

একনো বাড়ী গেলে, কথা বলি-হাসি-কান্না করি অঝোরে

মোনাজাতে বলি ভালো রেখো, ভালো থেকো মা কবরে।

ট্যাগস :

মায়ের সাথে কথা বলি

আপডেট সময় : ০৫:৩০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

 

নক্ষত্রের আলোয় ঘেরা আমার পুরো ঘর বাড়ি

উঠোনের দুলোয় গন্ধ ছড়ায় গোলাপের পাপড়ি

সন্ধ্যার জোছনায় আলোয় ভরে যায় প্রশান্তির ছায়ায়

যুগ-যুগান্তরে পেয়েছি এমনি করে আমার মায়ের মায়া,

ভোরের পাখির ডাকে উঠা -অন্ধকারে আলোয় ঘেরা

সমস্ত ক্লান্তি-ঘুম বিসর্জন কেটে গেছে কত বেলা।

 

ঘরে ফেরা হয়নি কত মাস – আমি যখন ঘরে ফিরি

মায়ের আস্তিরতা- আকুলতা বেরেই চলে

কি হবে, কি করবে, ছেলের পছন্দের খাবার-লাউ শাক!

কোথায় পাবে! কি যে একটা হস্তনস্ত ব্যাপার

আমার মায়ের সম্পদ বলতে আমরা দুই- ভাই

যন্ত্রনা বলতেও আমরা দুই ভাই।

 

মা যেদিন পৃথিবী ছেরে চলে যায় তখন আমি মায়ের সাথে

আমার কোলে মায়ের শেষ কালিমা পড়া

মৃত্যু এত সহজ হয়,ঐ দিন মায়ের মৃত্যুতে দেখেছি

মৃদু হাসি-কালিমা-সকলের সাথে কথা বলা, চীর মুক্তি!

তবে মুক্তি মিলেনি আমার যন্ত্রনার,আমার-কান্নার

আমার অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া গোলাপি জোছনার।

 

এ বেলা থেকে ও বেলা সময়ের সমাপ্তি লগ্নে

থাকা হয়নি তার, পৃথিবীর আপন মানুষেরে লয়ে

থাকা হয়নি প্রিয় ঘরে,প্রিয় বিছানার নীল চাদরে

দেখা হয়নি বাগানের কমলা ফুল,আমের ছোট্ট মুকুল

দেখা হয়নি আপনার আপন প্রিয় ভাই বোন।

 

আবার ফিরেছি ঘরে, ডাকেনি কেও বাবা বলে

বারান্দার চেয়ারে বসে কেও বলনি, শুকিয়ে গেছো!

এখন কি তেমন খাওনি,নাকি চিন্তা কর বেশি ,

পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ, বাবা-ও বোবা হয়ে গেছে

দীর্ঘ দিনের মায়া,পাজর ছিরে উড়ে গেছে কোন নিরবতায়।

 

এখনো কথা বলি মন খারাপের দিনে,সকাল-দুপুর-ভোরে

মা যেন সব বুঝে, সব শুনে,এই আকুলা স্নেহের গভীরতা

মা যেন ডেকে বলে প্রিয় লাউ- শাকের কথা

একনো বাড়ী গেলে, কথা বলি-হাসি-কান্না করি অঝোরে

মোনাজাতে বলি ভালো রেখো, ভালো থেকো মা কবরে।