বিআরটিসি’র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাস তৈরির সক্ষমতা আমাদের জন্য গর্বের ও অহঙ্কারের”
- আপডেট সময় : ১২:৪২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১২৬ বার পড়া হয়েছে
Share the post "বিআরটিসি’র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাস তৈরির সক্ষমতা আমাদের জন্য গর্বের ও অহঙ্কারের” "
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় সমন্বিত কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানা, গাজীপুর এ বিআরটিসি’র নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতকৃত ২টি এসি বাসের এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়), জনাব শেখ মইনউদ্দিন, বিশেষ অতিথি হিসেবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং সভাপতি হিসেবে বিআরটিসি চেয়ারম্যান, জনাব আব্দুল লতিফ মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব শেখ মইনউদ্দিন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর নিজস্ব কারখানায় নির্মিত আধুনিক দুটি এসি বাসের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আজকের এই আয়োজনে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এটি কেবল দুটি নতুন বাসের উদ্বোধন নয়- এই সক্ষমতা আমাদের জন্য গর্বের ও অহঙ্কারের।
তিনি বলেন, আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনায় অনেক রকমের বিশৃঙ্খলা রয়েছে। কিন্তু আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা আনতে হবে। এজন্য আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। শৃঙ্খলার জন্য আমরা অনেকগুলো ব্যবস্থা নিয়েছি। বিআরটিসিকে এক্ষেত্রে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। আমাদের বহরের বাসগুলো যাতে এখানে সংযোজন করতে পারি- সেই সক্ষমতায় যেতে হবে। সক্ষমতা এতোটা বাড়াতে হবে যাতে বাইরের গাড়িও এখানে সংযোজন করা যায়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, বিআরটিসি’র নিজস্ব কারখানায় এই দুইটি এসি বাস তৈরি করা শুধু সূচনা মাত্র। আমরা যেন আমাদের মেধার সর্বোচ্চ উৎকর্ষ সাধন করি। বিআরটিসিকে সম্প্রসারণের সুযোগ অনেক বেশি, আমরা সংস্থাটিকে সম্প্রসারণ করতে চাই। বিআরটিসি সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সকলের প্রচেষ্ঠায় এটি আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, আরও উন্নত হবে। এটা নতুন যুগের সূচনা মাত্র।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিআরটিসি চেয়ারম্যান, জনাব আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, বিআরটিসি কেবল একটি পরিবহন সংস্থা নয় এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠান। গণপরিবহন পরিচালনা ও ট্রাকের মাধ্যমে পন্য পরিবহনের পাশাপাশি নিজস্ব প্রশিক্ষণ অবকাঠামো, কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং ওয়ার্কশপের মাধ্যমে বিআরটিসি একটি সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলেছে। আজকের এই বাস নির্মাণ কার্যক্রম সেই সমন্বিত সক্ষমতারই একটি বাস্তব উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় বিআরটিসি’র বহরে নতুন যানবাহন যুক্ত হয়নি, অধিকাংশ বাস পুরাতন হয়ে যাওয়ার কারনে অপারেশন খরচ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং জোড়দার করণ এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস করে বর্ধিত বেতন-ভাতাদি নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে। বর্তমানে বিআরটিসির সদরদপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বিশাল স্ক্রিনে সারা দেশের প্রতিটি রুটে চলাচলকারী বাস ও ট্রাকগুলোকে ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম (VTS) ব্যবহারের মাধ্যমে রিয়েল টাইম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিআরটিসি বহরকে আরও সমৃদ্ধ করতে চলতি বছরের মধ্যেই কোরিয়া থেকে ৩৪০টি অত্যাধুনিক বাস আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন ট্রাক ও কোস্টার বাস যোগ করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
বিআরটিসি’র নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতকৃত এই বাস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, সংস্থা প্রধানগণ/প্রতিনিধিবৃন্দ, বিআরটিসির পরিচালক অর্থ ও হিসাব, ড. অনুপম সাহা, পরিচালক প্রশাসন ও অপারেশন মো: রাহেনুল ইসলাম, পরিচালক কারিগরি ও প্রশিক্ষণ, কর্নেল কাজী আইয়ুব আলী, করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের জিএম, ডিজিএমগণ এবং কর্পোরেশনের কর্মকর্তাগণ।
ধন্যবাদান্তে
মোস্তাকিম ভূঞা
জনসংযোগ কর্মকর্তা,
বিআরটিসি।









