বদরুল আলমের অনিয়মের রাজ্যে তিনিই রাজা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদরুল আলম খান সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পর থেকে অদ্যাবধি তার বিরুদ্ধে দুর্ণীতির মাধ্যমে নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি গণপূর্তের সাভার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এ ঘটনায় বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন সচেতন মহল।

অভিযোগে জানা যায়, বদরুল আলম, দুদক চেয়ারম্যান এর নিকট আত্মীয় পরিচয় দিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব এর নামে তোলে নিয়মিত মাশোহারা। এসব বিষয়ে জানতে গেলে সে অফিসের দরজা বন্ধ করে একপ্রকার সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যার কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি ফোন করলেও ফোন রিসিভ করেন না।

অভিযোগে আরো জানা যায়, বদরুল আলম খানের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সেই সুবাদে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহচর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সহকারী মুসা আনসারীর সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলে। মুসা আনসারী ২০১২ সালে তাকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ওবায়দুল মুক্তাদিরের সাথে।

যার সুবাদে দামী উপঢৌকন দিয়ে বদরুল আলম খান সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল মুক্তাদিরের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে ক্ষমতাধর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।  ছাত্রলীগের ট্যাগ লাগিয়ে তিনি ২০১৪ সালে তোফায়েল আহমেদের কাছে তদবির করেন ভোলায় লোভনীয় পোস্টিংয়ের জন্য। ভোলায় ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ বছরের চাকুরি জীবনে তিনি তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা মইনুল হোসেন বিপ্লব এমপি এবং আলী আজম মুকুল এমপি এবং নুরুন্নবী শাওন এমপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প, পুলিশ বিভাগের নতুন থানা নির্মাণ, জেলা ও উপজেলা টিটিসি নির্মাণ, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নির্মাণ ইত্যাদি প্রকল্পের সকল দরপত্র নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নেন এবং পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

এছাড়াও তিনি ভোলা গণপূর্ত বিভাগে চলমান মেরামত কাজ থেকে ১৫% হারে টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হন। তিনি ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরীর মাধ্যমে বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে ২০২০ সালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের কাছে তদবির করে ময়মনসিংহে পোস্টিং

এসময় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্ণীতি করার কারনে তাকে মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশনার মাধ্যমে ময়মনসিংহ থেকে ওএসডি করা হয়। ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে চাকুরিকালে তিনি বিধি বহির্ভূত ভাবে নিয়মনীতি এর তোয়াক্কা না করে লাখ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ময়মনসিংহ শহরে অসংখ্য বহুতল ভবনের নক্সা অনুমোদন করেন। তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে চট্টগ্রাম গণপূর্ত সার্কেল-১-এ কর্মরত থাকাকালীন সময়ে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেন।  আসছে ধারাবাহিক বিস্ময়কর চমকপ্রদ তথ্য…….

ট্যাগস :

বদরুল আলমের অনিয়মের রাজ্যে তিনিই রাজা

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদরুল আলম খান সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পর থেকে অদ্যাবধি তার বিরুদ্ধে দুর্ণীতির মাধ্যমে নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি গণপূর্তের সাভার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এ ঘটনায় বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন সচেতন মহল।

অভিযোগে জানা যায়, বদরুল আলম, দুদক চেয়ারম্যান এর নিকট আত্মীয় পরিচয় দিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব এর নামে তোলে নিয়মিত মাশোহারা। এসব বিষয়ে জানতে গেলে সে অফিসের দরজা বন্ধ করে একপ্রকার সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যার কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি ফোন করলেও ফোন রিসিভ করেন না।

অভিযোগে আরো জানা যায়, বদরুল আলম খানের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সেই সুবাদে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহচর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সহকারী মুসা আনসারীর সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলে। মুসা আনসারী ২০১২ সালে তাকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ওবায়দুল মুক্তাদিরের সাথে।

যার সুবাদে দামী উপঢৌকন দিয়ে বদরুল আলম খান সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল মুক্তাদিরের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে ক্ষমতাধর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।  ছাত্রলীগের ট্যাগ লাগিয়ে তিনি ২০১৪ সালে তোফায়েল আহমেদের কাছে তদবির করেন ভোলায় লোভনীয় পোস্টিংয়ের জন্য। ভোলায় ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ বছরের চাকুরি জীবনে তিনি তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা মইনুল হোসেন বিপ্লব এমপি এবং আলী আজম মুকুল এমপি এবং নুরুন্নবী শাওন এমপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প, পুলিশ বিভাগের নতুন থানা নির্মাণ, জেলা ও উপজেলা টিটিসি নির্মাণ, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নির্মাণ ইত্যাদি প্রকল্পের সকল দরপত্র নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নেন এবং পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

এছাড়াও তিনি ভোলা গণপূর্ত বিভাগে চলমান মেরামত কাজ থেকে ১৫% হারে টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হন। তিনি ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরীর মাধ্যমে বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে ২০২০ সালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের কাছে তদবির করে ময়মনসিংহে পোস্টিং

এসময় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্ণীতি করার কারনে তাকে মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশনার মাধ্যমে ময়মনসিংহ থেকে ওএসডি করা হয়। ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে চাকুরিকালে তিনি বিধি বহির্ভূত ভাবে নিয়মনীতি এর তোয়াক্কা না করে লাখ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ময়মনসিংহ শহরে অসংখ্য বহুতল ভবনের নক্সা অনুমোদন করেন। তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে চট্টগ্রাম গণপূর্ত সার্কেল-১-এ কর্মরত থাকাকালীন সময়ে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেন।  আসছে ধারাবাহিক বিস্ময়কর চমকপ্রদ তথ্য…….