শুকনো রুটি

মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ
  • আপডেট সময় : ০৬:২০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ১২২ বার পড়া হয়েছে

তাং-০৮/৫/২০২৬

শহরের ব্যস্ত গলিতে

হাজারো পথশিশুর কান্না দেখেছি আমি,

অথচ ছাপ্পান্ন বছর ধরে

স্বাধীনতার গানই গেয়ে চলেছি আমরা।

 

আজও পথে-মাঠে

শুনি বুটের শব্দ, গুলির শব্দ,

শহরের অলিতে-গলিতে

লাল রক্তের ঢেউ ভেসে যায় নিরবধি।

 

পাহাড় থেকে সমতল,

শহর পেরিয়ে গ্রামের চার রাস্তার মোড়ে

যৌবকের হাতে হাতে

দামি নেশার বোতল ঝলমল করে।

 

চারদিকে ধোঁয়া ওঠে

ইটের ভাটার মতো ভারী বিষাদে,

তবু ছেলেরা তাকে ডাকে

সুখের বসন্ত নামে।

 

চারদিকে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ,

সুদখোর, ধর্ষণকারী, তেলবাজের ভিড়,

পথে-মাঠে নেতার ভাষণ,

আর মানুষের লুট করা অভিজাত্য।

 

এর পরেও আমরা বলি

আমরা স্বাধীন!

স্বাধীনতা নাকি আমাদের হাতের মুঠোয়!

 

তবু চারদিকে ক্ষুধা, বেকারত্ব,

লোডশেডিংয়ের অন্ধকার, অভাবের দীর্ঘশ্বাস,

কথা বলার ভাষা নেই

বললেই যেন মৃত্যু এসে দাঁড়ায়।

 

আমি দেখেছি

শহর থেকে গ্রাম, অলিতে-গলিতে

শিশুর কান্না কাঁপায় আকাশ,

তারা বলে

মা, আমাকে ভাত দাও,

মা, আমাকে রুটি দাও।

 

তখন কোনো মা আঁচলে মুখ লুকিয়ে বলে

তুই বিষ খা… তুই মরলে আমি বাঁচি।

 

যে দেশে এখনো সংসদে বসে

স্বাধীনতা নিয়ে চায়ের আড্ডা হয়,

স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছরে

কে ঘোষক—তা নিয়েই তর্ক থামে না,

 

যে দেশে যুদ্ধের সার্টিফিকেট

ভাতার কাগজে মাপে সম্মান,

সেই দেশে পথশিশুরা কাঁদে

এক টুকরো শুকনো রুটির জন্য।

 

এই দেশে রুটির দাম বড় বেশি,

এই দেশে রুটি নিয়েও যুদ্ধ হতে পারে

তবু সংসদ বলবে

খাদ্যের কোনো সংকট নেই।

 

ভালো আছে জনগণ,

ভালো আছে পথশিশু

ভালো আছে বাংলাদেশ!

ট্যাগস :

শুকনো রুটি

আপডেট সময় : ০৬:২০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

তাং-০৮/৫/২০২৬

শহরের ব্যস্ত গলিতে

হাজারো পথশিশুর কান্না দেখেছি আমি,

অথচ ছাপ্পান্ন বছর ধরে

স্বাধীনতার গানই গেয়ে চলেছি আমরা।

 

আজও পথে-মাঠে

শুনি বুটের শব্দ, গুলির শব্দ,

শহরের অলিতে-গলিতে

লাল রক্তের ঢেউ ভেসে যায় নিরবধি।

 

পাহাড় থেকে সমতল,

শহর পেরিয়ে গ্রামের চার রাস্তার মোড়ে

যৌবকের হাতে হাতে

দামি নেশার বোতল ঝলমল করে।

 

চারদিকে ধোঁয়া ওঠে

ইটের ভাটার মতো ভারী বিষাদে,

তবু ছেলেরা তাকে ডাকে

সুখের বসন্ত নামে।

 

চারদিকে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ,

সুদখোর, ধর্ষণকারী, তেলবাজের ভিড়,

পথে-মাঠে নেতার ভাষণ,

আর মানুষের লুট করা অভিজাত্য।

 

এর পরেও আমরা বলি

আমরা স্বাধীন!

স্বাধীনতা নাকি আমাদের হাতের মুঠোয়!

 

তবু চারদিকে ক্ষুধা, বেকারত্ব,

লোডশেডিংয়ের অন্ধকার, অভাবের দীর্ঘশ্বাস,

কথা বলার ভাষা নেই

বললেই যেন মৃত্যু এসে দাঁড়ায়।

 

আমি দেখেছি

শহর থেকে গ্রাম, অলিতে-গলিতে

শিশুর কান্না কাঁপায় আকাশ,

তারা বলে

মা, আমাকে ভাত দাও,

মা, আমাকে রুটি দাও।

 

তখন কোনো মা আঁচলে মুখ লুকিয়ে বলে

তুই বিষ খা… তুই মরলে আমি বাঁচি।

 

যে দেশে এখনো সংসদে বসে

স্বাধীনতা নিয়ে চায়ের আড্ডা হয়,

স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছরে

কে ঘোষক—তা নিয়েই তর্ক থামে না,

 

যে দেশে যুদ্ধের সার্টিফিকেট

ভাতার কাগজে মাপে সম্মান,

সেই দেশে পথশিশুরা কাঁদে

এক টুকরো শুকনো রুটির জন্য।

 

এই দেশে রুটির দাম বড় বেশি,

এই দেশে রুটি নিয়েও যুদ্ধ হতে পারে

তবু সংসদ বলবে

খাদ্যের কোনো সংকট নেই।

 

ভালো আছে জনগণ,

ভালো আছে পথশিশু

ভালো আছে বাংলাদেশ!