সংবাদ শিরোনাম :
বিআরটিসি কমলাপুর ডিপোর দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের “পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অপারেশনস কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নম্বরসমূহ: ০১৩২০০০১২২৩, ০১৩২০০০১৩০০, ০১৩২০০০১২৯৯। আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট যেকোনো অভিযোগের জন্য উল্লিখিত নম্বরগুলোতে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, মোবাইল নম্বরসমূহ সার্বক্ষণিক (দিন-রাত ২৪ ঘন্টা) খোলা থাকবে।” স্বাক্ষরিত/- ফয়সল হাসান জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপপ্রধান তথ্য অফিসার/পরিচালক) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইতিহাস যা থাকার কথা তা নাই! মো১৬ ডিসেম্বর৭১ আত্মসমার্পন দলিলে মুক্তির যুদ্ধেরসর্বাধীনায়ক স্বাক্ষর করলে জাতি বিভক্তি আর ১৫ আগষ্ট৭৫, ৭ নভেম্বর৭৫ আর জুলাই বিপ্লব হতো কি! অথোরাইজড অফিসার হাসানুর রেজার তত্ত্বাবধানে মোবাইল কোট বসিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান  ১৬ ডিসেম্বর৭১ আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করে পানি আগ্রাসনের প্রতিবাদে রাজশাহীতে ১৬ মে ৭৬ ঐতিহাসিক বিক্ষোভ? প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ বিশেষ বিজ্ঞপ্তি শুকনো রুটি ঢাকার প্রথম মহিলা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম

জাতীয় প্রেসক্লাবে পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস  

শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৫:১৮:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫ ১৪৭ বার পড়া হয়েছে

আজ থেকে এক বছর আগে, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। সারা দেশে ছাত্র-শিক্ষক, যুবক, এবং সাধারণ মানুষ একযোগে রাস্তায় নেমে আসে, যার মূল দাবি ছিল শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং সামাজিক বৈষম্যের অবসান। এটি পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিতি পায়।

২০২৪ সালের গ্রীষ্মে, শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। ৫ জুলাই তারিখে, হাজার হাজার শিক্ষার্থী ঢাকার শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, এবং দেশের অন্যান্য প্রধান শহরগুলিতে একত্রিত হয়। তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দ্রুতই গণআন্দোলনে রূপ নেয়, যেখানে তারা শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।৫ জুলাই-এর প্রথম দিকে, আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেয়, ব্যানার প্রদর্শন করে এবং বিভিন্ন সৃজনশীল উপায়ে তাদের দাবি তুলে ধরে। সরকার প্রথমে আন্দোলনটিকে সাধারণ ছাত্রদের ক্ষোভ হিসেবে দেখলেও, দ্রুতই এর ব্যাপকতা বুঝতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান সহ মারণঘাতি অস্ত্র ব্যবহার করে যার ফলে বহু ছাত্র জনতা নিহত ও আহত হয়।শুধুমাত্র ছাত্রসমাজ নয়, দেশের বিভিন্ন পেশাজীবী, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষও এই আন্দোলনে যোগদান করে। এই গণঅভ্যুত্থানটি সকল শ্রেণির মানুষকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসে, যা এর সফলতার মূল কারণ ছিল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। আন্দোলনের তীব্রতার মুখে সরকার বাধ্য হয়ে দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যান এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটে।

৫ আগস্ট ২০২৫ জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজে যৌথভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন করেন। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ বিএফইউজে সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী ডিইউজে’র সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ ডিআরইউ মোরসালিন নোমানী পাঞ্জেরি পত্রিকার সম্পাদক রুমি সহ বহু সাংবাদিক নেতা মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়াও দেশের মানুষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী পালন করছে। বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক দল স্মরণসভা ও আলোচনার আয়োজন করেছে, যেখানে তারা জনগণের ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরছে। এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানটি দেশের তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও ন্যায়সঙ্গত ও সমতাপূর্ণ সমাজ গড়ার জন্য অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

 

ট্যাগস :

জাতীয় প্রেসক্লাবে পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস  

আপডেট সময় : ০৫:১৮:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

আজ থেকে এক বছর আগে, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। সারা দেশে ছাত্র-শিক্ষক, যুবক, এবং সাধারণ মানুষ একযোগে রাস্তায় নেমে আসে, যার মূল দাবি ছিল শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং সামাজিক বৈষম্যের অবসান। এটি পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিতি পায়।

২০২৪ সালের গ্রীষ্মে, শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। ৫ জুলাই তারিখে, হাজার হাজার শিক্ষার্থী ঢাকার শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, এবং দেশের অন্যান্য প্রধান শহরগুলিতে একত্রিত হয়। তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দ্রুতই গণআন্দোলনে রূপ নেয়, যেখানে তারা শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।৫ জুলাই-এর প্রথম দিকে, আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেয়, ব্যানার প্রদর্শন করে এবং বিভিন্ন সৃজনশীল উপায়ে তাদের দাবি তুলে ধরে। সরকার প্রথমে আন্দোলনটিকে সাধারণ ছাত্রদের ক্ষোভ হিসেবে দেখলেও, দ্রুতই এর ব্যাপকতা বুঝতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান সহ মারণঘাতি অস্ত্র ব্যবহার করে যার ফলে বহু ছাত্র জনতা নিহত ও আহত হয়।শুধুমাত্র ছাত্রসমাজ নয়, দেশের বিভিন্ন পেশাজীবী, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষও এই আন্দোলনে যোগদান করে। এই গণঅভ্যুত্থানটি সকল শ্রেণির মানুষকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসে, যা এর সফলতার মূল কারণ ছিল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। আন্দোলনের তীব্রতার মুখে সরকার বাধ্য হয়ে দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যান এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটে।

৫ আগস্ট ২০২৫ জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজে যৌথভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন করেন। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ বিএফইউজে সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী ডিইউজে’র সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ ডিআরইউ মোরসালিন নোমানী পাঞ্জেরি পত্রিকার সম্পাদক রুমি সহ বহু সাংবাদিক নেতা মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়াও দেশের মানুষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী পালন করছে। বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক দল স্মরণসভা ও আলোচনার আয়োজন করেছে, যেখানে তারা জনগণের ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরছে। এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানটি দেশের তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও ন্যায়সঙ্গত ও সমতাপূর্ণ সমাজ গড়ার জন্য অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।