৩১ কোটি বই মুদ্রণের বিশাল কর্মযজ্ঞ; শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো নতুন বই পৌঁছে দিতে সপ্তাহে সাত দিনই কাজ
বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণে নিরলস নির্ঘুম এনসিটিবি, স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নথি যাচাই করছে দুদক
- আপডেট সময় : ১১:২৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে
Share the post "বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণে নিরলস নির্ঘুম এনসিটিবি, স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নথি যাচাই করছে দুদক"
শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই সময়মতো পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বিপুলসংখ্যক বই মুদ্রণ, মান নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ও বিতরণের বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সপ্তাহের সাত দিনই চলছে কার্যক্রমের প্রস্তুতি ও সমন্বয়। প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় এনসিটিবির সচিব প্রফেসর শাহ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌসের দপ্তর এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. রাকিবুর রহমানের সাথে। তাদের মাধ্যম পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণ কার্যক্রমের অগ্রগতি, ব্যয়সংক্রান্ত অভিযোগ এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সম্পর্কে তথ্য জানা যায়।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি বই মুদ্রণ ও সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একই সঙ্গে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চারটি নতুন বই সংযোজনের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। বিপুলসংখ্যক বইয়ের মুদ্রণ, মান যাচাই এবং নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ কার্যক্রমে ব্যাপক প্রস্তুতি ও সমন্বয় প্রয়োজন হচ্ছে।দুদক ইনফোর্সমেন্ট টিমের অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, বই মুদ্রণের ব্যয়, প্রতি কপির খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কাগজ, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের পরিবর্তন নিয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রতি কপিতে ১০ পয়সা ব্যয়ের একটি হিসাব এবং প্রায় ২৫২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এর সঙ্গে দুদকের অভিযোগে উল্লিখিত প্রায় ২৫২ কোটি টাকার পার্থক্য রয়েছে। ফলে কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কোন সময়ের মূল্যতালিকা ব্যবহার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের হিসাব কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে—তা নথির মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।এ বিষয়ে এনসিটিবির সচিব প্রফেসর শাহ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌসের দপ্তর এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাকিবুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য।বিনামূল্যের পাঠ্যবই কর্মসূচি দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বই পৌঁছে দিতে মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়, কাগজ ও অন্যান্য উপকরণের সরবরাহ, মুদ্রণের মান নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবহনব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, চলতি বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দিতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। নতুন বই সংযোজনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রমে বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে।এনসিটিবির পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণ কার্যক্রমের ইতিবাচক দিক হলো বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে বই সরবরাহের লক্ষ্য বাস্তবায়ন। তবে এ কর্মসূচিতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার, দরপত্রপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ব্যয়ের যথাযথ হিসাব নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তারা জানিয়েছেন এ পর্যন্ত ৬৬ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো মানসম্মত বিনামূল্যের পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা—এই দুই লক্ষ্য সমন্বিতভাবে বাস্তবায়িত হলে এনসিটিবির প্রতি জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।















