বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর অডিট বিভাগের যুগ্মনিয়ন্ত্রক (চলতি দায়িত্ব) জনাব মো: আল-আমিনের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করায় সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষি ভবন, ৪৯-৫১ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ থেকে শৃঙ্খলা শাখা, সংস্থাপন বিভাগের জারি করা নোটিশ (নম্বর: ১২.০৬.০০০০.০০০.২০৩.২৭.০০৫০.২৬.২০৬৬, তারিখ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ / ২০ আশ্বিন ১৪৩৩) এ একাধিক অভিযোগ তুলে ধরে তাকে ৭ দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, জবাব না দিলে বিএডিসি কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৯০-এর ৪৫(১) অনুসারে সাময়িক বরখাস্তসহ ৩৯(ক) ও (খ) ধারায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নোটিশে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:
MIEFP প্রকল্পের টিইসি সভায় হঠাৎ প্রবেশ করে সভাপতি নিয়োগ নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও হুমকি।
বহিরাগত লোক ডেকে এনে অফিসে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়া।
অডিট বিভাগে উচ্চস্বরে চিৎকার, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং নথি ছুঁড়ে মারা।
অনুমতি ছাড়া অফিসে অনুপস্থিতি এবং কৈফিয়ত তলবের পত্র ছিঁড়ে ফেলা।
পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে ডেকে নিয়ন্ত্রককে ঘেরাও করা।
অফিসে পাঞ্জাবী-টি-শার্ট পরে আসা এবং চেয়ারম্যানের কক্ষে সরাসরি ঢুকে প্রশ্ন তোলা।
অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, এই নোটিশ একতরফা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো অতিরঞ্জিত এবং যথাযথ তদন্ত ছাড়াই এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “অডিট বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে যারা কথা বলেন, তাঁদেরকেই এভাবে চাপের মুখে ফেলা হচ্ছে। এটা শৃঙ্খলার নামে দমনমূলক ব্যবস্থা।”
বিএডিসি’র কয়েকটি পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, নোটিশ প্রত্যাহার করে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে স্বচ্ছতার সুযোগ দিতে হবে। তাঁরা সতর্ক করে দিয়েছেন, ন্যায়বিচার না হলে পরবর্তীতে সংগঠিত প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
বিএডিসি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নোটিশটি সচিব আবু জাফর রাশেদ স্বাক্ষরিত এবং এতে সদস্য পরিচালক (অর্থ), কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব, নিয়ন্ত্রক (অডিট) ও চেয়ারম্যানের একান্ত সচিবকে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তা মহলের অনেকেই বলছেন, “একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এতগুলো অভিযোগ একসঙ্গে তুলে ধরে সাময়িক বরখাস্তের হুমকি দেওয়া মানেই চাপ সৃষ্টি করা। আমরা চাই ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছ তদন্ত।”
Copyright © 2026 সত্যযুগ. All rights reserved.