ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৩, মহাখালীর ট্রেড লাইসেন্স শাখায় সেবা গ্রহণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ট্রেড লাইসেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকসেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ অভিযোগের নেপথ্যে হাবিব নামের এক ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ট্রেড লাইসেন্স ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় একটি সরকারি অনুমোদন। এ সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফি, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং সময়সীমা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কোনো আবেদনকারীকে যদি নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ দিতে চাপ দেওয়া হয়, তাহলে তা সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট শাখার আবেদন গ্রহণ, নথি যাচাই, ফি জমা, লাইসেন্স অনুমোদন ও বিতরণপ্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের বক্তব্য, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ, সরকারি রসিদ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা জরুরি।
প্রশাসনের তদন্ত ও জবাবদিহি প্রয়োজন
ট্রেড লাইসেন্স শাখায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। হাবিবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাঁর দায়িত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করেই প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা সম্ভব।
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের বিষয়ে হাবিবের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, "নিউজ করে কিছু করতে পারলে করেন"। অভ্যন্তরীণ একটি সূত্রের অভিযোগ থেকে জানা যায়, হাবিব বিগত স্বৈরশাসক সরকারের আমলে শ্রমিক লীগের সামনের সারির নেতা ছিলেন এবং আওয়ামী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। এখনো তিনি মহাখালী উত্তর সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল ৩ এর ট্রেড লাইসেন্স শাখায় ফ্যাসিস্ট সরকারের দাপট দেখিয়ে চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপস্থিত নাগরিকদের প্রত্যাশা, ট্রেড লাইসেন্স সেবা নির্ধারিত সরকারি ফিতে, স্বচ্ছ নিয়মে এবং কোনো ধরনের অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ছাড়াই নিশ্চিত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সেবা প্রত্যাশীরা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
Copyright © 2026 সত্যযুগ. All rights reserved.