রাজধানীসহ সারাদেশে সরকারি খাদ্যশস্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, মজুতের নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রমে তদারকি জোরদার করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। বর্তমান সরকারের গত কয়েক মাসে খাদ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রমে নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ঢাকা জেলা রেশনিং কার্যক্রমেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি খাদ্যগুদামে মজুত খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনাও জারি হয়েছে। ২০২৬ সালের ৪ মে খাদ্য অধিদপ্তর আকস্মিক বন্যা থেকে সরকারি গুদামে মজুত খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে নির্দেশনা প্রকাশ করে। একই সময়ে বোরো সংগ্রাম ২০২৬-এর অগ্রগতি নিয়েও মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা রেশনিং: রাজধানীর খাদ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র
রাজধানীর খাদ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে প্রধান নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ঢাকা রেশনিং। এ কার্যালয়ের বর্তমান প্রধান নিয়ন্ত্রক মোঃ আব্দুল কাদের। ঢাকা রেশনিংয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। নিরলস ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন আর ও আনোয়ার হোসেন এ আর ও তারিকুজ্জামান সহ অফিসের নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাগণ।
ঢাকা জেলা রেশনিং কার্যালয়ের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে খাদ্যশস্যের লাইসেন্স নবায়ন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং ওএমএস কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি।
বিশেষ করে ওএমএস কার্যক্রমে নিয়মিত দোকান ও বিক্রয়কেন্দ্রের রোস্টার প্রকাশ করার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। ঢাকা রেশনিং কার্যালয়ের ২০২৬ সালের বিভিন্ন তারিখের ওএমএস দোকান ও বিক্রয়কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র, বিক্রয় কার্যক্রম এবং জনসাধারণের জন্য খাদ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা দেখা যায়।
মাঠপর্যায়ে তদারকি ও প্রশাসনিক সমন্বয়
মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টন ও পরিবর্তনের বিষয়েও প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের ১৩ মার্চ মোঃ আনোয়ার হোসেনকে এলাকা রেশনিং কর্মকর্তা, ডি-৪ হিসেবে যোগদান করেছেন।
এদিকে ঢাকা জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ও ২০২৬ সালের জুনে ওএমএস কার্যক্রম পরিদর্শনপূর্বক মাসিক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদারকি/মনিটরিং কমিটি গঠন এবং সার্বিক তদারকি ও সমন্বয়কারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব প্রদান সংক্রান্ত আদেশ প্রকাশ করেছে।
ঢাকা জেলা রেশনিং কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা, বিক্রয়কেন্দ্রভিত্তিক তথ্য প্রকাশ, মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন এবং নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে খাদ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাদ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে শুধু খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও মজুত নয়, বরং গুদামের নিরাপত্তা, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, ওএমএস কার্যক্রমের তদারকি এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সমন্বয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সরকারি কার্যক্রমে এসব বিষয়ে ধারাবাহিক নজরদারির বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুঃ জসীম উদ্দিন খানের নেতৃত্বে অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের উদ্যোগ এবং ঢাকা রেশনিংয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক মোঃ আব্দুল কাদেরের অধীন রাজধানীর রেশনিং ব্যবস্থাপনার মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম—দুই স্তরের সমন্বিত উদ্যোগ সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জন্য ওএমএসের মতো কর্মসূচি নিয়মিত পরিচালনা, বিক্রয়কেন্দ্রের তথ্য প্রকাশ, ঢাকা জেলা রেশনিং কার্যক্রমে তদারকি বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বয় অব্যাহত থাকলে সরকারি খাদ্যসেবা আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
Copyright © 2026 সত্যযুগ. All rights reserved.