রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—রাজউকের এস্টেট পরিদর্শক মোঃ ফারুক হোসাইন মালুমকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনসহ নানা অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দলিল, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন, দুদকের মামলা কিংবা আদালতের নথি জনসমক্ষে উপস্থাপিত হয়েছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ফারুক হোসাইন মালুমের বিরুদ্ধে ‘সম্পদের পাহাড়’ গড়ার অভিযোগ তুলে দুদকের তদন্তের দাবি করা হয়েছে। কিন্তু প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগের সমর্থনে তাঁর নামে নির্দিষ্ট সম্পত্তির দলিল, আয়-ব্যয়ের হিসাব, ব্যাংক লেনদেন, দুদকের অনুসন্ধান আদেশ কিংবা কোনো মামলার নম্বর উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অভিযোগ এবং প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করা জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে ফারুক হোসাইন মালুমের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্বের অংশ। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব নির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে তিনি কী ব্যাখ্যা দিয়েছেন, কোনো লিখিত জবাব দিয়েছেন কি না কিংবা কোনো কর্তৃপক্ষ অভিযোগ তদন্ত করছে কি না—এসব তথ্য ছাড়া একতরফা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা প্রশ্নবিদ্ধ।
বিশেষ করে কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, কোম্পানি বা ব্যবসায়িক স্বার্থ, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কেবল ‘সম্পদের পাহাড়’ ধরনের সাধারণ অভিযোগ দিয়ে অপরাধ প্রমাণিত হয় না।
রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ, তদন্ত এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য প্রকাশের অধিকারও নিশ্চিত করা জরুরি। ফারুক হোসেন মালুমের সঙ্গে কথা হলে তিনি এই ধরনের সংবাদকে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে অভিহিত করেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
Copyright © 2026 সত্যযুগ. All rights reserved.