সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়া, নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া বিল-ভাউচার সংক্রান্ত যেসব অভিযোগ সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, গণপূর্ত বিভাগের সব দরপত্র সরকারি ই-জিপি ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে এবং প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করেই কাজ দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুবিধা পাওয়া বিল পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। একই প্রতিবেদনে কয়েকটি কাজ ও টেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান স্পষ্টভাবে বলেন, অভিযোগগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি বা প্রমাণক নেই। তিনি দাবি করেন, তাঁকে লক্ষ্য করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
মাহমুদুল হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের সব দরপত্র শতভাগ ইলেকট্রনিক প্রকিউরমেন্ট বা ই-জিপি পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যোগ্যতা যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে রেসপনসিভ দরদাতাকে বিবেচনা করা হয়। তাঁর দাবি, এ প্রক্রিয়ায় কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ইচ্ছামতো কাজ পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, কোনো কাজের কার্যাদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। কাজ বাস্তবায়নের পর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কাজের পরিমাণ ও গুণগত মান যাচাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে বিধি অনুযায়ী ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হয়।
এ ছাড়া কয়েকটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার কাজ দেওয়ার অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান একাধিক কাজ পেয়েছে—এ তথ্য একাই অনিয়ম প্রমাণ করে না। সংশ্লিষ্ট দরপত্রের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান, তাদের যোগ্যতা, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, রেসপনসিভ/নন-রেসপনসিভ হওয়ার কারণ, NOA এবং চুক্তিপত্র পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
মাহমুদুল হাসান বলেন, সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উন্নয়নকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। কাজের পরিমাণ ও মান যথাযথভাবে যাচাই করার পরই ঠিকাদারকে বিল দেওয়া হয়। কোনো কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারী সংস্থার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও সন্তুষ্টির ভিত্তিতে তা হস্তান্তর করা হয়।
মাহমুদুল হাসানের বক্তব্য হলো—তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকারি আইন, বিধি ও ক্রয়প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।
তিনি প্রকাশিত এই ভিত্তিহীন মিথ্যা সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
Copyright © 2026 সত্যযুগ. All rights reserved.