সম্প্রতি কিছু জাতীয় দৈনিক পত্রিকা অনলাইন পত্রিকা অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত‘ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ' শীর্ষক সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনে আমাকে জড়িয়ে যেসব অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বাস্তব তথ্য,ডিপো পরিচালনার বাস্তবতা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রতিবেদনটি একপাক্ষিক, অনুমাননির্ভর এবং আমার দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার মতো বিভ্রান্তিকর তথ্যের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে।
আমি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনে (বিআরটিসি)'র একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন সততা, নিষ্ঠা ও সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করছি। আমার দায়িত্ব পালনের সময়ে কোনো বিল-ভাউচার,জ্বালানি তেল সংক্রান্ত ব্যয়,ফেরি খরচ,
গ্যারেজ ও টুলসের ব্যয়ে,মাইলেজ ভাতা,দৈনিক ভাতা ও টিএ/ডিএ,বিভিন্ন খাতে ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলন, বিল প্রদানসহ প্রতিটি ধাপ সংশ্লিষ্ট সরকারি নীতিমালা ও কারিগরি বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২২ হাজার ২৬২ টাকার অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে, একটি ডিপো পরিচালনার জন্য এবং কাজের সফলতা শুধু বিল ভাউচারে সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং বিআরটিসি'র নিয়ম-নীতি ও বিভিন্ন আইনি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এটিকে ভিত্তি করে বিল, জ্বালানি, ফেরি, ভাতা, নগদ উত্তোলন ও রাজস্ব হিসাব কাজে অর্থ আত্মসাৎ বা দুর্নীতির অভিযোগ করা বাস্তবসম্মত নয়।
এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য নির্ধারিত কমিটি, নথিপত্র, পরিমাপ , কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন, বিল ভেরিফিকেশন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মতামত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শুধুমাত্র অভিযোগ বা অনুমানের ভিত্তিতে কোনো কর্মকর্তাকে দায়ী করা ন্যায়সংগত নয়।
এছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, জাল-জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ, এই অভিযোগের সঙ্গে আমার কোন প্রকার সম্পৃক্ততা নেই।এসব বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে আমাকে দায়ী করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি এই সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
আমার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়েও প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। আমার আয়, সম্পদ ও করসংক্রান্ত তথ্য যথাযথ নিয়মে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হয়েছে।কোনো সম্পদের বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংস্থা তা যাচাই করতে পারে। কিন্তু যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই সংবাদে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন অভিযোগ প্রমাণিত সত্য—যা ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী। আমি এ ধরনের ভিত্তিহীন খবরে তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমি সবসময় সরকারি চাকরির আচরণবিধি ও পেশাগত দায়িত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো প্রমাণিত নয় এবং এগুলো আমার দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।
অতএব, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ—প্রকাশিত প্রতিবেদনের অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ অংশ সংশোধন করে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং তথ্য যাচাইয়ের নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রয়োজনে আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত যেকোনো অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
বিনীত
মোঃ কামরুজ্জামান
Copyright © 2026 সত্যযুগ. All rights reserved.