গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রশাসনিক ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসান। বিশেষ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি লটারিভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগকে অধিদপ্তরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন করা হয়। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পূর্ত ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ কার্যক্রমে দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের পদায়ন নির্ধারণ করা হয়। পুরো কার্যক্রমের সঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসান যুক্ত ছিলেন।
এ উদ্যোগের তাৎপর্য তুলে ধরে কাজী মো. ফিরোজ হাসান বলেন, প্রথমবারের মতো এ ধরনের লটারিভিত্তিক বদলি কার্যক্রম প্রকৌশলীদের মধ্যে আস্থা, সমতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁর এই বক্তব্যে বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার গুরুত্বই উঠে এসেছে।
শুধু সিভিল শাখাতেই নয়, পরবর্তী সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল শাখার ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকেও লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন করা হয়। ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত ওই কার্যক্রমেও কাজী মো. ফিরোজ হাসান উপস্থিত ছিলেন। লটারির ফল অনুযায়ী আট বিভাগের বিভিন্ন কার্যালয়ে এসব কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়।
প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বদলি ও পদায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে জনবল পদায়নের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি, দক্ষতা এবং সেবার মান সরাসরি সম্পর্কিত। একই সঙ্গে বদলি প্রক্রিয়া যত বেশি নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ হয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তত বেশি আস্থা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে। সেই বিবেচনায় গণপূর্ত অধিদপ্তরে লটারিভিত্তিক পদায়ন পদ্ধতির প্রয়োগকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তর দেশের সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর রাখতে দক্ষ সমন্বয় ও সুষ্ঠু সংস্থাপন ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজী মো. ফিরোজ হাসানের দায়িত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এই প্রশাসনিক সমন্বয়কে আরও কার্যকর করা।
সাম্প্রতিক বদলি-পদায়ন কার্যক্রমে লটারির মতো অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান প্রক্রিয়ার ব্যবহার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে পদায়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের পরিবর্তে একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়াকে সামনে আনার উদ্যোগ প্রশাসনিক সংস্কারের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা ও আস্থা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা অনুযায়ী সঠিক জায়গায় কাজে লাগানোর মাধ্যমে অধিদপ্তরের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সময়ে লটারিভিত্তিক বদলি-পদায়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে কাজী মো. ফিরোজ হাসান গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, সমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। আগামী দিনে এ ধরনের প্রশাসনিক উদ্যোগ কতটা স্থায়ী ও কার্যকর হয়, সেটিই হবে এর সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি।
Copyright © 2026 সত্যযুগ. All rights reserved.