গত ০৬/০৮/২০২৬খ্রি. তারিখে দেশের একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় "কমিশন ছাড়া বিল ছাড়েন না হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা" শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদে প্রকাশিত তথ্য বিভ্রান্তিকর। এর ফলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেন্দ্রীয় ঔষাধাগার (সিএমএসডি) এর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। সংবাদে অভিযোগকারী যে প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে সে প্রতিষ্ঠান (মেডিকিট কর্পোরেশন) বিগত ০৩ (তিন) বছর সিএমএসডি-তে কোন কাজ করেননি এবং কোন বিলও গ্রহণ করেননি। সুতরাং তার অভিযোগের কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাছাড়া মেডিকিট কর্পোরেশন ০৬/০৮/২০২৪খ্রি. তারিখেই সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদক বরাবর প্রতিবাদলিপি জমা দিয়েছেন এবং প্রকাশিত সংবাদের সাথে মেডিকিট কর্পোরেশন কিংবা এর স্বত্বাধিকারীর কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা, সংশ্লিষ্টতা বা যোগাযোগ নেই। উক্ত ঘটনার সাথে তাদের প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি কোনোভাবেই জড়িত ছিল না। এ ধরনের কার্যক্রমের সাথে তাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পর্কও নেই উল্লেখ করে মেডিকিট কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী ০৯/০৮/২০২৬খ্রি. তারিখে সিএমএসডি'র পরিচালক বরাবর পত্র প্রেরণ করেছেন।
সিএমএসডি'র হিসাব শাখার নিয়মানুযায়ী হিসাবরক্ষক/এলসি ইনচার্জ/অফিস সহকারী বিল উপস্থাপন করে এবং সে বিল হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে মোঃ আব্দুর রাজ্জাক যাচাই করে স্বাক্ষর করে। তারপর ফিন্যান্স অ্যান্ড বাজেট অফিসার, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন), উপপরিচালক (সিএমএসডি) এবং পরিচালকের স্বাক্ষরে বিল পাস করা হয়। অর্থাৎ হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ছাড়াও আরো ০৫ (পাঁচ) জনের স্বাক্ষরে বিল পাস হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে বিল আটকিয়ে রেখে কমিশন নেয়ার প্রমাণ থাকলে সেটা আমাদের নজরে আসত। কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছে কোন অভিযোগ করেনি।
এখানে উল্লেখ্য যে, প্রকাশিত সংবাদে ৭৯ কোটি টাকার ভুয়া বিল পাস করিয়ে মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিপরীতে জানানো যাচ্ছে যে, উক্ত বিলগুলো কোভিড-১৯ কালীন সময়ের। অর্থাৎ ২০২০ সালের। মহামান্য হাইকোর্ট এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশনার আলোকে ক্রয়কৃত কোভিড-১৯ সরঞ্জামের বিল বিভিন্ন কারণে এতদিন পরিশোধ করা যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে উক্ত বিল পরিশোধের বিষয়ে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি'র রিভিউ প্যানেলের আদেশ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি'র মতামত, অর্থ বিভাগের বরাদ্দ ও সম্মতিপত্র, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ব্যয়মঞ্জুরীপত্র এবং স্বাস্থ্য অডিট অধিদপ্তরের মতামতের আলোকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিল পাস করে পরিশোধের জন্য সিএএফও/স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সেগুনবাগিচায় প্রেরণ করা হয়েছে এবং সেখান থেকে সরাসরি সরবরাহকারীর ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোন ভুয়া বিল পরিশোধ করা হয়নি।
বাংলাদেশের কোথাও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ও তার স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাট ও প্লট নেই এবং ব্যাংকে কোন ধরনের টাকা ডিপোজিট নেই। তিনি বেতনের টাকায় সাদামাটা জীবনযাপন করে থাকেন। এ ধরনের সংবাদ প্রচার করে তাকে পারিবারিক, সামাজিক, অফিসিয়ালি হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সিএমএসডি'র পরিচালক বরাবর আবেদন করেছেন।
আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে সম্মান করি। গত ০৬/০৮/২০২৬খ্রি. তারিখে প্রকাশিত "কমিশন ছাড়া বিল ছাড়েন না হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা" শীর্ষক সংবাদটি ভিত্তিহীন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
Copyright © 2026 সত্যযুগ. All rights reserved.