রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অন্যতম পর্যায়ের নেতৃত্বে রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম), গণপূর্ত ই/এম জোন, ঢাকা—জনাব আশ্রাফুল হক।
বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরে মোঃ আশ্রাফুল হক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম), গণপূর্ত ই/এম জোন, ঢাকা হিসেবে কর্মরত আছেন।
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) হিসেবে তাঁর দায়িত্বের আওতায় ঢাকা অঞ্চলের গণপূর্তের বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক কার্যক্রমের সার্বিক প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও সমন্বয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম কাঠামোর অধীনে বিভিন্ন সার্কেল, বিভাগ ও প্রকল্পে কর্মরত প্রকৌশলীদের কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারি স্থাপনাগুলোর বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সেবা সচল রাখার কাজ করা হয়।
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর অধীনে ঢাকা অঞ্চলে একাধিক ই/এম সার্কেল ও বিভাগ রয়েছে।
সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবায় ই/এম বিভাগের গুরুত্ব অপরিসীম বলে জানা যায়।
বর্তমানে সরকারি অফিস, হাসপাতাল, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনা, প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা, লিফট, জেনারেটর, এয়ার কন্ডিশনিং, পাম্প, অগ্নিনিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ও অন্যান্য যান্ত্রিক সুবিধা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এসব ব্যবস্থার পরিকল্পনা, রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন ও কারিগরি তদারকিতে গণপূর্তের ই/এম বিভাগের প্রকৌশলীদের ভূমিকা রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পর্যায়ে প্রশাসনিক ও কারিগরি সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়।
সরকারি স্থাপনায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়, আধুনিক বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, জেনারেটর ও অন্যান্য ব্যাকআপ ব্যবস্থা, লিফট ও যান্ত্রিক সরঞ্জামের নিরাপদ ব্যবহার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব বাড়ছে।
এক্ষেত্রে ই/এম বিভাগের নেতৃত্বে থাকা একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব শুধু নতুন স্থাপনায় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা স্থাপনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিদ্যমান স্থাপনাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, কারিগরি মান নিশ্চিতকরণ, প্রকৌশলীদের মধ্যে সমন্বয় এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়ন তদারকিও গুরুত্বপূর্ণ।
পেশাগত পরিমণ্ডলেও সক্রিয় ভূমিকা
প্রকৌশল বিষয়ক পেশাগত আলোচনাতেও মোঃ আশ্রাফুল হকের অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি)-এর একটি সেমিনারের তথ্য অনুযায়ী, প্রকৌশলী আশ্রাফুল হককে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, ই/এম (পিএন্ডডি), গণপূর্ত অধিদপ্তর হিসেবে আলোচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এ ধরনের পেশাগত আলোচনা প্রকৌশল খাতে বিদ্যুৎ ও অগ্নিনিরাপত্তা, ইউটিলিটি ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করে।
জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশা
গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো বৃহৎ সরকারি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি মান বজায় রাখা, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সময়মতো কাজ সম্পন্ন করা।
আশ্রাফুল হকের বর্তমান দায়িত্বও এ বৃহৎ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে ঢাকা অঞ্চলের সরকারি স্থাপনাগুলোর ই/এম অবকাঠামোকে নিরাপদ, কার্যকর ও আধুনিক রাখার ক্ষেত্রে তাঁর দপ্তরের সমন্বয়মূলক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সামনে আরও কার্যকর ই/এম ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশা
রাজধানীতে সরকারি স্থাপনার সংখ্যা ও প্রযুক্তিনির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, স্মার্ট বিল্ডিং ব্যবস্থাপনা, আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নিয়মিত প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এ অবস্থায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম জোনের নেতৃত্বে থাকা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হকের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা, আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় ও আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সরকারি স্থাপনাগুলোর সেবার মান আরও উন্নত হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
Copyright © 2026 সত্যযুগ. All rights reserved.