রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মতিঝিল এলাকা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত। এখানকার ব্যস্ত রাস্তা, ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ও
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)- কামরুজ্জামান তালুকদার এর নেতৃত্বে চলছে নানামুখী কার্যক্রম। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অপরাধ দমন, জনকল্যাণ সভা এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে তারা এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনছেন।
ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও রাস্তা দখলমুক্তকরণ
মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগের অধীনে ডিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করার ফলে কমিউটাররা স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছেন। ট্রাফিক মতিঝিল বিভাগের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। মাসিক কল্যাণ সভা ও ট্রাফিক কনফারেন্সের মাধ্যমে ট্রাফিক পুলিশদের দক্ষতা বাড়ানো এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মতিঝিল থানার ওসির নেতৃত্বে নিয়মিত অভিযানে ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই চেষ্টাকালে আসামি আটক, চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধার এবং বিভিন্ন মামলার আসামি গ্রেফতারের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। মতিঝিল জোনের পুলিশি তৎপরতায় স্বল্প সময়ে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করে জনগণের আস্থা অর্জন করা হয়েছে।
ডিসির নেতৃত্বে বিভাগীয় পর্যায়ে ক্রাইম কন্ট্রোল, বিট পুলিশিং এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে, যা এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে।
মতিঝিল বিভাগে মাসিক কল্যাণ সভা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, প্রশিক্ষণ ও জনসেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। ডিসি-এর সভাপতিত্বে এসব সভায় কর্মকর্তাদের মোটিভেশন বাড়ানো হয়।
বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে। এছাড়া ট্রাফিক আইন মান্যতার সংস্কৃতি গড়ে তোলায় জোর দেওয়া হয়েছে।
মতিঝিল বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এবং থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার সহ অন্যান্য কর্মকর্তা বৃন্দ দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তাদের অধীনে পুলিশ সদস্যরা বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য পদকপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং জনগণের মধ্যে পুলিশের ইমেজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।
মতিঝিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম শুধু অপরাধ কমায় না, বরং বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিবেশকেও উন্নত করে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ঢাকার কেন্দ্রস্থল আরও নিরাপদ ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।
এসব উদ্যোগ ডিএমপির সামগ্রিক লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং জনগণের সহযোগিতায় আরও সফল হবে বলে আশা করা যায়।
Copyright © 2026 সত্যযুগ. All rights reserved.