কি ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে কত না অসত্যের আশ্রয় নেয়। ২৬ মার্চ ৭১ স্বাধীনতা ঘোষণা পর থেকে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির মাথা খারাপ হয়ে যায়! অস্হায়ী প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়াকে মেহেরপুর প্রবাসী সরকার গঠনে আহবান না করা! ১৬ ডিসেম্বর ৭১ বিজয় অর্জনের আত্মসমর্পণ দলিল স্বাক্ষরের সময় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম,এ,জি,ওসমানীকে উপস্থিত হতে না দেওয়া। উপ-প্রধান এ,কে,খন্দকার উপস্থিত থাকলেও অরোরা আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করে। ১৭ তারিখ থেকে ইন্ডিয়ান বাহিনী গনলুট ও গনহত্যা শুরু করে! ১০ জানুয়ারী ৭২ শেখ মজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ফেরেন। তারপর থেকে গনহত্যা গনলুট থেকে বাঁচার আকুতি শুরু করে। ২২ জানুয়ারী ৭২ মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী গৃহবন্দী থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরলেন। ১৫ আগষ্ট ৭৫ আর ৭নভেম্বর৭৫ সিপাহী জনতার বিপ্লব ১/১১ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক অপশক্তির আগ্রাসন মুক্ত থাকে জাতি। তারপর জুলাই-আগষ্ঠ২৪ আনন্দোলন আবার ১৬ ডিসেম্বর৭১ এর বিজয় পুর্নরায় ছিনিয়ে আনে? ১৬ ডিসেম্বর৭১ এর চক্রান্ত বার জাতিকে মুক্ত করেছে। কিন্তু অস্বীকার করায় আবার ষড়যন্ত্রের জ্বাল বিস্তার করে। সকলেই সাবধান হতে হবে। আজকের প্রজন্ম পর্যালোচনা করতে শুরু করেছে ১৯৪৬ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলের জনগন ইষ্ট ইণ্ডিয়ান কোম্পানি আর চরম সাম্প্রদায়িক অপশক্তির আগ্রাসন থেকে মুক্তির আন্দোলন শুরু করে। তখন থেকে মুসলিম হত্যা না না ভাবে ইন্ডিয়া চলছে। নেতাজী সুভাসচন্দ্র বোস আপোষ না করায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাজরা তাকে মুল্যায়ন করে নাই! ৭মার্চ৭১ যখন গোটা জাতি স্বাধীনতার ঘোষণা শোনার অপেক্ষায় রেসকোর্স ময়দানে দিকে চেয়ে ছিলো? তখন জনসভা গোটা জাতিকে হতাশ করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল গিয়ে আড্ডায় বসে? ৯ মার্চ৭১ মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী দ্ব্যার্থহীন কন্ঠে ঘোষণা না দেন আর কোন আলোচনা নয় স্বাধীনতা! তারপর তিনি স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষে নিরাপদ মনে করে প্রতিবেশীর ওখানে গেলেন। কিছু দিন পর তিনি গৃহবন্দী হলেন এবং মুক্তি পেলেন ২২ জানুয়ারী ৭২। ইতিমধ্যে আ'লীগ নেতা মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ ওপারে গেলে তাকেও চরম লাঞ্চনার স্বীকার হতে হয়? ২৫ মার্চ ৭১ রাতে শেখ মজিবুর রহমান তার পরিবারের সদস্যদের পাকিস্তানী বাহিনীর হেফাজতে রেখে পাকিস্তান চলে যান! সেই রাতেই স্বাধীনতা প্রেমিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা জনতার উপর ষ্ট্রীম রোলার চলতে শুরু হয়! বাংলার সূর্য সন্তান দেশপ্রেমিক মেজর জিয়া উর রহমান ঘোষণা দিলেন "চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে আমি মেজর জিয়া অস্হায়ী প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিচ্ছি। একজন দেশপ্রেমিক তাকে ভুল-ভাল বুঝিয়ে চট্টগ্রামের তখনকার আ'লীগ নেতা আব্দুল হান্নান শেখ মজিবুর রহমান এর নির্দেশে ঘোষণা দেওয়ান? কিন্তু তখন শেখ মজিবুর রহমান পাকিস্তানে? শুরু হলো ইতিহাস বিকৃত আর জাতির মধ্যে বিভাজন খেলে?১৯৪৬ থেকে নানা কৌশলে মুসলিম হত্যার যে ফাদ পেতে হত্যা শুরু হয়! এই প্রক্রিয়া ২৬ মার্চ ৭১ থেকে শুরু হয় পুর্ণরায়! যে রেসকোর্স ময়দান ৭মার্চ ৭১ স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পারলো না! ঘোষণা আসলো চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে অস্হায়ী প্রেসিডেন্ট হিসাবে মেজর জিয়াউর রহমান এর? আবার সেই রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়া, প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা মন্ডলির সভাপতি স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা রুপকার স্হপতি মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, প্রবাসী সরকার, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী। উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের উপ পধান একে,খন্দকার। আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করলো ইন্ডিয়ার অরোরা? তারপরেই শুরু হলো পাকিস্তান বাহিনীর অস্ত্র বাংলাদেশের জনগনের রক্ত আর সম্পদ লুটের উৎসব? ১০ জানুয়ারী ৭২ শেখ মজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে লন্ডন আর দিল্লী হয়ে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে আসলেন। এবারো ১৯৪৬ থেকে এই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ নিতে টার্গেট করে এবারো তাই? ২২ জানুয়ারী ৭২ গৃহবন্দী থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরলেন মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ফীরলেন? দেশ ফীরে কয়েকদিন টাঙ্গাইল সন্তোষে থেকে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ঢাকায় আসলেন। পল্টনে দ্ব্যার্থহীন কন্ঠে ঘোষণা দিলেন নিরপেক্ষ তদন্তে অপরাধী চিহ্নিত করার আগ পর্যন্ত কাউকে অপরাধী বলে জাতিকে বিভক্তি করার নোংরা খেলা বন্ধ করতে হবে। অব্যাহত চাপের মুখে শেখ মজিবুর রহমান বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হানকে দিয়ে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এক সপ্তাহ অতিক্রম করার আগেই তদন্ত কমিটি স্থগিত! তারপর জহির রায়হান গুম? তখন যারা খল নায়ক নায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখতো তারা ছাড়া সবাই আধিপত্যবাদ সাম্প্রদায়িক অপশক্তি কথা বলতো? তারপর আধিপত্যবাদের আগ্রাসনে জাতি যখন ক্ষত-বিক্ষত তখন মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী গৃহবন্দী টাঙ্গাইল সন্তোষে? এই আধিপত্যবাদের আগ্রাসনের স্হায়ী ক্ষেত্র তৈরী করতে দেশপ্রেমিকদের না না অভিযোগে হত্যা গুম করতে থাকে? আবারো কর্নেল ফারুক -মেজর হুদা সহ কতিপয় দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা জাতিকে উদ্ধার করে! কিন্তু তার মধ্যে পতিত শাসকদের চক্র থাকায় মাঝ পথে হাত ছাড়া হয় অর্জন? কিন্তু সিপাহী জনতার ৭ নভেম্বর ৭৫ বিপ্লব করে গৃহবন্দী থেকে মুক্ত করেন নির্লোভ নিরহংকারী স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে? তারপর ক্ষমতা লোভীরা জনতাকে সামনে রেখে জনতার অধিকার হরণের চক্রান্ত করে। জাতিকে আধিপত্যবাদ মুক্ত করতে ন্যাপ ভাসানী সহ আধিপত্যবাদ বিরোধী রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলার প্রক্রিয়া দেখিয়ে যান স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা রুপকার স্হপতি মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী তার সেক্রেটারি জেনারেল মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে ন্যাপের সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে সরে দাঁড়ান। কিন্তু এক এক করে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণ করলো? মশিউর রহমান যাদু মিয়া সহ দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মুল্যেবোধে বিশ্বাসী নেতৃবৃন্দ বিদায় নিতে থাকলে জনতা হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা দিয়ে বিদায় নিলো? ইতিমধ্যে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে চক্রান্ত করে হটিয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ক্ষমতা বসালো আধিপত্যবাদ? এরপর জাতি প্রয়োজনে গৃহবধূ থেকে রাজপথে জনতার নেতৃত্ব নিলেন প্রথম মহিলা মুক্তিযোদ্ধা বেগম খালেদাজিয়া। ৩০ ডিসেম্বর২৫ পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন দেশপ্রেমিক জনতার অভিভাবক দেশনেত্রী বেগম খালেদাজিয়া হিসাবে? আজ মনে পড়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদাজিয়া এক দিন রাতে গুলশান অফিসে ডেকে বলে ছিলেন আমার মুক্তির জন্যে নয় দেশকে মুক্ত করতে সাংবাদিক রাজনীতিবীদ আর জনতাকে এক কাতারে প্রতিরোধের আহবান। যখন ৪/৭ দলীয় জোট ভেঙে গেলো তখন একদিন মেডামৃ বলেছিলেন জরা হয়তো অবৈধ সম্পদের মালিক হয়ে পরিবারের সদস্যদের আধিপত্যবাদের কৃতদাস করে গেলো? ওদের কেউ স্মরণ করবে না? ওরা গনতান্ত্রিক প্লাট ফর্ম ভাঙতে চাইবে। কিন্তু ইনশাআল্লাহ আধিপত্যবাদের কৃতদাসদের পদদলিত করে বাংলার লাল সবুজ পতাকা স্বাধীন ভাবে উড়বে? সেদিন যারা জীবিত থাকবে তাদের দায়িত্ব হচ্ছে আধিপত্যবাদ,সাম্প্রদায়িক অপশক্তির চক্রান্ত ক্ষমতাকে পদদলিত করে জাতিয় ঐক্য সুদৃঢ় করা। তাহলে ডিসেম্বর৭১ যে বিজয় হাত ছাড়া হয়েছে। সেই বিজয়ের পূর্ণত্বা আসবে? আজকে যেন ক্ষমতা নয় জনতার গুরুত্বে পেলে ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে হবে। বিজয়ের পূর্ণত্বা আনতে হবে। তা নাহলে আবারো রক্ত ঝড়বে আধিপত্যবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে। খলনায়করা যতই নায়ক হতে চাক তাদের খলনায়ক থাকতে হবে। লেখক চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশন(বিআরজেএ) সদস্য ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন(ডিইউজে) ও সম্পাদক দৈনিক শিকল।
Copyright © 2026 সত্যযুগ. All rights reserved.