১৯৭১ সালে গোটা জাতি যখন পাকিস্তান থেকে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেয়? ঠিক সেদিন বীর জাতির অর্জনকে ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করে অরোরা। পাকিস্তান শাসন আমলে যে ফারাক্কার মরন বাঁধ ইন্ডিয়া চালু করতে পারে না। ১০ জানুয়ারী ৭২ শেখ মজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে লন্ডন ও দিল্লি হয়ে বাংলাদেশে ফীরেন। মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তখনো ইন্ডিয়াতে গৃহবন্দী।২২ জানুয়ারী ৭২ স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা রুপকার স্হপতি মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী গৃহবন্দী থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরলেন বরুইমাড়ী সীমান্ত দিয়ে। দেশে ফিরেই বলেন যতদিন যুব সমাজের উপলব্ধি হবে না দিল্লী আমাদের প্রকাশ্যশক্র ততদিন আমরা স্বাধীনতা পাবো না। এরপর ৭২ এর সংবিধান ইন্ডিয়া থেকে আসা হক কথায় প্রকাশের পর হক কথার ডিক্লেয়ারেশন বাতিল করে। দেশ জুড়ে মিত্র বাহিনী বা ইন্ডিয়ান বাহিনী গনলুট আর গনহত্যার প্রতিবাদ করেন মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী। মেজর এম,এ,জলিল গনলুট আর গনহত্যার বাধা দেওয়া স্বাধীনতার পদক বঞ্চিত আর কারাগারে নিক্ষেপ করে মজিব সরকার। দেশে আধিপত্যদের উন্মুক্ত আগ্রসনে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পরে।ঠিক যেন কাশ্মীর,বিহার,উড়িশ্যা,সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম গনহত্যা আর গনলুটের মতই! ১৫ আগষ্ট৭৫ আধিপত্যবাদের আগ্রাসনের পতনে দেশে মিষ্টি বিতরণ হয়। তখন মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী টাঙ্গাইল সন্তোষে গৃহবন্দী। হুজুর নারায়েতকবির আল্লাহু আকবার শ্লোগান শুনে ঘুম থেকে ওঠে বসেন। আল্লাহু আকবার শ্লোগান শুনে হুজুর দুই রিকাত নফল নামাজ আদায় করেন। তারপর আধিপত্যবাদের পতনের সংবাদ শুনে বাইরে তাকিয়ে দেখেন হুজুরকে পাহাড়া দেওয়া পুলিশ সদস্যরা নাই। হুজুর তখনি সিদ্ধান্ত নিলেন সকালে ঢাকায় যাবে। ১৬ আগষ্ট ৭৫ ঢাকায় আসলেন হুজুর। সদ্য আধিপত্য মুক্তকারীদের নিয়ে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ কানাঘুষা করছে। হুজুর তখনই মন্তব্য করলেন জাতি ঐক্যবদ্ধ না হলে আবার আধিপত্যবাদের আগ্রাসন হবে! কয়দিন পর আধিপত্যবাদ সরকারের যারা আগষ্ট বিপ্লবীদের সাথে আতাত করে ক্ষমতায় ছিলো। তাদের একটা অংশ আবার ক্ষমতা ছিনিয়ে নিলো। তারপর অস্হায়ী প্রেসিডেন্ট হিসাবে মহান স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়াকে গৃহবন্দী করে। ৭ নভেম্বর ৭৫ সিপাহি জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে মুক্ত হন। তখন স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া উর রহমান উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হন। এর মধ্যে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী দিল্লীর আধিপত্যবাদ বিরোধী জনমত গড়তে থাকেন। ইন্ডিয়ার আগ্রাসী নীতি বৃহৎ অংশ শেখ মুজিবুর রহমান মৌখিক ভাবে পরীক্ষামুলক চালুর অনুমতি দেয়! মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী পানি আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষে লংমার্চের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তখন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সার্বিক সহযোগিতা করেন। ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চের সার্বিক তত্বাবধানের দায়িত্বদেন মরহুম মশিউর রহমান যাদু মিয়া, আব্বাস বারী এটি সহ হুজুরের আস্হা ভাজন দেশপ্রেমিকদের।১৬ মে ১৯৭৬ রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে লাখো জনতার সমাবেশ! দিল্লীতে ইন্ডিয়ার তখন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আতংকিত অবস্হায় রাজশাহীর খোঁজ খবর নিতে থাকে। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী স্পষ্ট ভাষায় বললেন পানির ন্যায্যহিস্যা না দিলে কঠিন মুল্যে দিতে হবে। এরপর গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতি সংঘে ফারাক্কার এক তরফা পানি প্রত্যায়াহারের কথা তুলেন। অবশেষে বেশ কিছু অগ্রগতি হয়। কিন্তু প্রতিবেশী আধিপত্যবাদ গোষ্ঠী শহীদ জিয়ার দেশ পরিচালনায় না না বিঘ্ন সৃষ্টি করতে থাকতে? দেশপ্রেমিক জিয়া উর রহমান চক্রান্ত প্রতিহত করতে সার্ক গঠনে মনোনিবেশ করেন। সেই সাংবাদিক এনায়েত উল্লাহ্ খান,গিয়াস কামাল চৌধুরী, আনোয়ার জাহিদ সহ অনেক সাংবাদিক প্রেসিডেন্টকে অনুপ্রেরণা যোগান। কিন্তু প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার শাসনের সাড়ে তিন বছর দেশকে আধিপত্যবাদের আগ্রাসন মুক্ত রাখতে ছিলেন আপোষহীন। প্রতিবেশীর আগ্রাসীর ক্ষেত্র তৈরী করতে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মৌলবোধের ঐক্যে তৈরী, সার্ক গঠন, আর ইসলামী সম্মেলন সংস্হা ওআইসি সচল করেন। আজ দীর্ঘ ১৭ বছর পর যখন বাংলাদেশ আধিপত্যবাদ মুক্তের পথে অগ্রসর হচ্ছে। ঠিক তখন পানির ন্যায্য হিস্যায় কোন অগ্রগতি নাই। সার্ক ও ইসলামী সম্মেলন সংস্হা ওআইসির কথা মানুষ ভুলে যাওয়ার পথে। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যে সৃষ্টি হয়ে ছিলো। আজ এই ঐক্য বিভক্তি করতে আধিপত্যবাদ চক্র নানা নোংরা চক্রান্ত করছে। এখন দেশ নয় ক্ষমতা মুখ বিষয় বুঝানোর নানা অপচেষ্টা চলছে।আজ মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদাজিয়া নাই।৪৮ বছর আগে দেশপ্রেমিকরা যে জাতিয় ঐক্য করে ছিলেন। আজ তা ভাঙতে ফ্যাসিবাদ তাদের প্রভুদের স্বার্থে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্য নষ্ট করতে মিথ্যাচার করছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে ঐক্য ধরে রাখতে। রাজনৈতিক, পেশাজীবি সহ সকল ক্ষেত্রে আধিপত্যবাদের কৃতদাসরা স্বাধীনতার প্রতিক বিএনপির লেবাস পরে বিভিন্ন জায়গায় অপরাধ করছে। জাতি বীরের পরিবারে সদস্যকে বীর বেশেয় দেখতে চায়। জুলাই সনদ গৃহীত আর সংবিধান সংস্কার অথবা বাতিল করে চক্রান্ত রুখতে হবে। ইতিমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় জনগণ তৃপ্তির ঢোক নিচ্ছে। তবে জাতিয় ঐক্য ভেঙে পরলে এই উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পরবে। ন্যায্য পানির হিস্যা শুধু নয় চীন,রাশিয়া, ইরানের সঙ্গে মিত্রতা করতে হবে। রুখতে হবে দিল্লীর চক্রান্ত গড়তে হবে নতুন জোট। লেখক চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশন(বিআরজেএ) সম্পাদক দৈনিক শিকল, সদস্য ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন(ডিইউজে).১৬মে২৬
Copyright © 2026 সত্যযুগ. All rights reserved.