তাং-০৩/৪/২০২৬
আচ্ছা কবিরা কি অনেক শিক্ষিত হয়?
সুটবুট পরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোয় গড়া
নাকি লাইব্রেরির নীরব কোণে বসে
হাজারো বইয়ের ভেতর ডুবে থাকা মানুষ?
শুনেছি কবিরা শিক্ষিত হয়,
তারা বই লেখে, গল্প বলে,
মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেয়
শব্দে শব্দে গড়ে তোলে সমাজের প্রতিচ্ছবি।
তারা কি তবে সুশীলও হয়?
আমার চারপাশে শত শত কবির ভিড়
কেউ বাংলায় অনার্স, কেউ সাহিত্যে মাস্টার্স,
কেউ আরও উচ্চ ডিগ্রির আলোয় উজ্জ্বল।
এখনকার কবিরা ইংরেজিতে কথা বলে,
ভালো ইংরেজি না জানলে
লোকে নাকি শিক্ষিত বলে না
তাই শিখতে হয়, তাই জানতে হয়।
কিন্তু আমি?
আমি তো ইংরেজি জানি না,
উচ্চশিক্ষার পথেও হাঁটা হয়নি কখনো,
কলেজের দোরগোড়াও পেরোইনি।
পদবী নেই, আভিজাত্য নেই,
সুটবুটও মানায় না আমার শরীরে।
তবু কিছু শব্দ আসে
আমি জানি না, ওগুলো কবিতা কি না।
আমি শুধু লিখি
আমার মনের যন্ত্রণা,
হৃদয়ের চাপা কথা,
চোখের নীরব ভাষা।
তাই তোমরা আমাকে কবি বলো না,
আমি কবি হতে চাই না।
তোমরা শুধু পড়ো
আমার হৃদয়ের সেই খোলা ডায়েরি,
যেখানে আমি তোমাদেরই বলি
আমার না বলা গল্পগুলো।
শুনেছি নজরুলও নাকি
এতটা প্রথাগত শিক্ষিত ছিলেন না,
তবু তিনি ছিলেন মহাকবি
বিদ্রোহের আগুনে জ্বালানো এক নাম।
তিনি আমার গুরু, মহাগুরু।
কিন্তু আমি তো আর নজরুল নই
আমাকে জানতে হবে আরও অনেক কিছু,
শব্দ, ভাষা, অভিধান, জ্ঞানের আলো।
আজ আমার মাথা শূন্য লাগে,
নিজেকে মনে হয় গণ্ডমূর্খ, জ্ঞানহীন
তবু এই ভোলা মাথা নিয়ে
আমি লিখে যাই নিঃশব্দে অনেক কথা।
তাই বলি
আমাকে কবি বলে উপহাস করো না,
আমি কবি হতে চাই না।
আমি শুধু একজন মানুষ,
যে নিজের কষ্টগুলো
শব্দে শব্দে বাঁচিয়ে রাখি।
Copyright © 2026 সত্যযুগ. All rights reserved.