ঢাকা মেডিকেলে অপারেশনের দীর্ঘ প্রায় ১৫ দিনের মতো বাসায় রেস্টে ছিলাম। আজ ২ মার্চ ফলো আপের জন্য ঢাকা মেডিকেলে ডাক্তারদের কাছে যাওয়ার কথা। তাই সকাল আটটায় মতিঝিল বাসা থেকে বাইকে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। কিন্তু বিধিবাম শান্তিনগর যাওয়ার পর বাইকের তেল ফুরিয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করলাম স্টার্ট দেওয়ার জন্য পারলাম না। অপারেশন অবস্থায় বাইক ঠেলে নিয়ে মৎস্য ভবনের সামনে থেকে তেল ভরা আমার জন্য কঠিন হয়ে উঠলো। নিজে কয়েকজন বাইকার ভাই কে বললাম টাকার বিনিময় হলেও ১০০ গ্রাম তেল দেওয়ার জন্য। কেউ রাজি হলেন না। এমতাবস্থায় দায়িত্বরত সার্জেন্ট মিস্টার সোহেল ভাইকে বিষয়টি জানানোর পর তিনি উদ্যোগী হয়ে অনেক বাইকারকে রিকোয়েস্ট করেন। কেউ দিতে চাইলো না ।তারপরও সার্জেন্ট সাহেব নাছোড়বান্দা সবাইকে রিকোয়েস্ট করছে আমার জন্য এবং দৌড়ে দৌড়ে তিনি যানজট নিরসন করছেন। কথা বলে জানলাম তিনি রাজারবাগ থাকেন। অত্যন্ত ভদ্র বিনয়ী পরিশ্রমী ও পরোপকারী একজন পুলিশ অফিসার তিনি। রোজার মধ্যে তার পরিশ্রম দেখে বিষয়টি আমার কাছেও খারাপ লাগছে। কিন্তু বাইক রেখে রিক্সায় যাব সে পরিস্থিতি ও নেই। সার্জেন্ট সাহেব একজন লোককে নিয়ে আসলেন বাইকের পাশে। তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম তিনি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের টেরিটরি ম্যানেজার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সাহেব। অত্যন্ত ভদ্র ও বিনয়ী একজন মানুষ আমাকে বললেন, আপনার যতটুকু লাগে নেন। ওই স্থানে দায়িত্বরত একজন সিকিউরিটি গার্ড ছিলেন তিনিও খুব পরোপকারী একজন ভালো মানুষ। তিনি তেল নেওয়ার জন্য একটি বোতল জোগাড় করে দিলেন। আমি ১০০ গ্রামের মত তেল নিলাম এবং তাকে ধন্যবাদ দিলাম। সার্জেন্ট সোহেল ভাই ম্যানেজার মুস্তাফিজুর রহমান ভাই ও সিকিউরিটি গার্ড আকরাম ভাইদের মত লোক গুলো আছে বলেই পৃথিবী এত সুন্দর। এই রোজার মাসে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি তারা সবাই ভালো থাকুক। জয় হোক মানবতার। লেখক সাংবাদিক শফিক।
Copyright © 2026 সত্যযুগ. All rights reserved.